উন্নয়নে দ. কোরিয়ার এফডিআই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান

  • asif jakaria
  • December 23, 2014
  • Comments Off on উন্নয়নে দ. কোরিয়ার এফডিআই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান
s korea-cpd
s korea-cpd
মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘কোরিয়ান ডেভেলপমেন্ট এক্সপেরিয়েন্স: লেসন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি- মহুবার রহমান

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) অবদান সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে বাংলাদেশকে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে অ্যাম্বাসি অব কোরিয়ান ইন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘কোরিয়ান ডেভেলপমেন্ট এক্সপেরিয়েন্স: লেসন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) অর্থনৈতিন উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা ত্বরান্বিত করতে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজে ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অ্যাম্বাসি অব কোরিয়া ইন বাংলাদেশ ও সিপিডির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সিএসআর’ এর বৈশ্বিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনসাঙ কং। আর বাংলাদেশ প্রেক্ষিত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

মূল প্রবন্ধে মুনসাঙ বলেন, কোরিয়ার আধুনিক অর্থনীতির শুরুতে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হতো। অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্য হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে কোরিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ ১১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। প্রধানত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসে। ১৯৯৯ সালে কোরিয়ায় রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হয়।

সে সময় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রকল্পে টাস্কফোর্স সহায়তা, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা, সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়াসহ আকর্ষণীয় সুবিধা দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা অনেক বেশি তা কোরিয়ার উন্নয়নের দিকে তাকালেই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে বর্তমানে অর্থনীতিতে শীর্ষস্থানে থাকা চীন কোরিয়ার একমাত্র ব্যবসায়িক সহযোগী।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মাত্র ২০ বছরে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ীক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ২১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। দেশ দুটি বিদেশি বিনোয়োগে আকর্ষণীয় সব প্যাকেজ দিয়ে তাদের অর্থনীতির চাকাকে সুদূঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

সিএসআরের ব্যবহার নিয়ে কোরিয়ান স্কুল অব ল’র অধ্যাপক জেমিন লি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের শুরুতে দেশটি তাদের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয়। সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় এনে এ কার্যক্রমকে বৃহৎ আকারে রূপ দান করেছে দেশটি। ফলে পরিবেশের উন্নয়নসহ কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সিএসআরের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিত আলোচনায় সিএসআর সেন্টারের নির্বাহী প্রধান শাহমিন এস জামান বলেন, বাংলাদেশে সিএসআর শুধু ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এর অর্থ ব্যয়েও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হয় না। তাই সিএসআরের অর্থ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত এইচ.লি. ইয়েন ইয়িন ইয়ং প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এইউ নয়ন