‘জাতিসংঘ নদীধারা কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর করার দাবি’

  • Emad Buppy
  • May 16, 2014
  • Comments Off on ‘জাতিসংঘ নদীধারা কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর করার দাবি’
river
river
মানববন্ধনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা

জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক নদী সংক্রান্ত কনভেনশনে বাংলাদেশেকে দ্রুত স্বাক্ষর করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন।

সেইসঙ্গে ন্যায়সংগত ‘নদী ও পানি চুক্তির’ মাধ্যমে উজানে অভিন্ন আন্তর্জাতিক ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিও  জানিয়েছে এই সংগঠনগুলো।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানানো হয় ।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, ফারাক্কা বিরোধী আন্তর্জাতিক প্রচার পরিষদ (ইককাফ), বাংলাদেশ, স্বদেশ পার্টি, তুরাগ বাঁচাও আন্দোলন, দুনীর্তি প্রতিরোধ আন্দোলন, সোনার বাংলা পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি, হাওর অঞ্চলবাসীসহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দ্যা কনভেনশন অন দ্যা ল অব দ্যা নন নেভিগেশনাল ইউজেস অব ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকোর্সেস-১৯৯৭ সালের ২১মে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ১০৬ দেশের সম্মতিতে এটি গৃহীত হয়।

নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘের যেকোনো কনভেনশন কার্যকর করতে হলে অন্তত ৩৫টি সদস্য দেশের অনুস্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রতিবেশি দেশ ভারত ও চীন এই সনদের প্রকাশ্যে বিরোধীতা করলেও ২০১৪ সালের  ফেব্রুয়ারি মাসে আইভরিকোস্ট ৩৪তম দেশ হিসেবে আইনটিতে অনুস্বাক্ষর করেন।  আর মাত্র একটি দেশ স্বাক্ষর করলেই তা কার্যকর হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেই আইন হিসেবে এটি কার্যকর হবে। তাই নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশকে এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করা দরকার।

বক্তারা বলেন, বহুদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন এই দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। ভারতপ্রীতির কারণেই সরকার এ বিষয়ে নিরব রয়েছে।

বক্তার আরও বলেন, এই নদীধারা কনভেনশনের ৫ ধারায় পানির ব্যাবহার ও উন্নয়নে নদী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। ৬ ধারায় হেলসিংকি সনদের কথা বলা হয়েছে। ৭ ধারায় পানি চুক্তি না থাকলে আন্ত:সীমান্ত নদীর পানি ব্যবহারের সময় অংশীদার রাষ্ট্রের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সে সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের উজানে অভিন্ন আন্তর্জাতিক ৫৪টি নদীতে ভারতের নির্মিত বাঁধ, ড্যাম, ব্যারেজ ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশের ৭’শ থেকে ৮’শ নদী, কয়েক হাজার খালবিল, হাওড়-বাঁওড় শুকিয়ে মরুতে পরিণত হয়েছে।

ফারাক্কা ও তিস্তা বাঁধে বাংলাদেশের পরিবেশের বিরুপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ দেশের কৃষি, মৎস, জীববৈচিত্র, সুন্দারবন ধ্বংস হওয়ার পথে। নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সম্প্রতি। দক্ষিণাঞ্চলের লোনা পানি ও আর্সেনিকের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।

তিস্তা নদীসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের লক্ষ্যে সরকারকে সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান তারা।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে এবং ‍তুরাগ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ ড. এস আই খান, বিশিষ্ট নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ইনামুল হক, হাওর অঞ্চলবাসী সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, উপদেষ্টা ইউসুফ আলী প্রমুখ।

জেইউ/এ এস