হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ২২ মে আপিলের শুনানী

হাইকোর্ট ও বিএসইসির লোগো
হাইকোর্ট ও বিএসইসির লোগো
ছবি: হাইকোর্ট ও বিএসইসির লোগো

তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্পন্সর ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আবেদনের উপর শুনানি শেষে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে। আগামি ২২ মে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চেম্বার জজ হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।বিএসইসির পক্ষে শুনানিতে আংশ নেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, রমজান আলী হায়দার। এনসিসি ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জে মোহাম্মদ আলী।

আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বুধবার সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার থাকার বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের যৌথ বেঞ্চ এ রায় দেন।

সকালে রায়ের বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা বৈঠক করেন। বৈঠকে আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়। কমিশন তার আলোকে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ওপর দায়িত্ব অর্পন করে। তার পরামর্শেই চেম্বার জজের কাছে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বিএসইসির ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আপিল করে। দীর্ঘ সময় পর ১৪ মে বুধবার হাইকোর্ট বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণাকরে।

এ বিষয়ে আবেদনকারীর আইনজীবী আহসানুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের জন্য একটি আইন জারি করে। ২ সিসি ধারা আওতায় ডি ও ই ধারা জারি করে। দীর্ঘ সময় পর হাইকোর্ট এই আইনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। কোর্টের মতে, এ ধরনের আইন জারি করা বিএসইসির এখতিয়ারের বাইরে।

বিএসইসির আইন অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনা দেয় বিএসইসি। যেসব উদ্যোক্তা পরিচালক ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হবেন, তারা কোম্পানিতে থাকতে পারবেন না। আর এ নির্দেশনা জারি করা হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্সের ২ সিসি ধারা বলে। এ ধারায় বলা আছে, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওপর বিএসইসি যেকোনো ধরনের শর্ত আরোপ করতে পারে। এ শর্ত বা নির্দেশনা বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও ২ সিসি বলে দেওয়া নির্দেশনা কার্যকর হবে।

আর যে সব কোম্পানিতে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে না, সে সব কোম্পানি পুনরায় বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি।