ন্যূনতম শেয়ার ধারণ: এখনও সিদ্ধান্তহীন বিএসইসি

high-court
হাইকোর্ট
ছবি: হাইকোর্ট

তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্পন্সর ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সম্পর্কে করণীয়ের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তবে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আজ সকালে তারা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সে বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তারা বুধবার দেওয়া রায়ের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার জজের কাছে যাবেন কি-না। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার থাকার বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের যৌথ বেঞ্চ এ রায় দেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আমরা জেনেছি। বুধবার যখন এ রায়ের কথা শুনতে পাই তখন আমাদের অফিস সময় শেষ। আর কমিশনের চেয়ারম্যানও তখন অফিস ছিলেন না। কাল আদালতের নির্দেশনার কোনো কপিও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা হবে। চেম্বার জজের কাছে গিয়ে স্থগিতাদেশ চাওয়া, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা এসব বিষয়ে এখানে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাফিজুররহমান বিএসইসির ২সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আপিল করে। দীর্ঘ সময়পর ১৪ মে বুধবার হাইকোর্ট বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণাকরে।

এবিষয়ে আবেদনকারীর আইনজীবী আহসানুর রহমানঅর্থসূচককে বলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদেরদুটি আইন জারি করে। তার একটি হল ২সিসি এবং ডিওই ধারা। দীর্ঘ সময় পরহাইকোর্ট এই আইনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। কোর্টের মতে, এ ধরণের আইন জারি করা বিএসইসিরএখতিয়ারের বাইরে।

বিএসইসির আইন অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ ওসম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনা দেয় বিএসইসি। যে সবউদ্যোক্তা পরিচালক ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হবেন, তারা কোম্পানিতে থাকতেপারবেন না। আর এ নির্দেশনা জারি করা হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্সের ২ সি ধারা বলে। এ ধারায় বলা আছে, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উপর বিএসইসি যে কোনো ধরণের শর্ত আরোপ করতে পারে। এ শর্ত বা নির্দেশনা বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও ২ সিসি বলে দেওয়া নির্দেশনা কার্যকর হবে।

আর যে সব কোম্পানিতে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ারথাকবে না, সে সব কোম্পানি পুনরায় বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে নাবলে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি।