কোম্পানি আইন সংশোধনের পরামর্শ

“জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও সুমাইয়া খায়ের, সুলতানা কামাল ও টিআইবি চেয়ারম্যান ইফতেখারুজ্জামান
“জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও সুমাইয়া খায়ের, সুলতানা কামাল ও টিআইবি পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান

দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ও ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোম্পানি আইন সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির বুধবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে  আয়োজিত “জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশ” শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই পরামর্শ দেয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে  ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজতর করা, কোম্পানির কাঠামোতে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা এবং যথাযথ প্রতিবেদন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনকে সংশোধন করা জরুরি।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও সুমাইয়া খায়ের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসা ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনী সুরক্ষার অভাব রয়েছে। ব্যবসা খাতে দূর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

এছাড়া আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং রাজনীতিবিদদের সাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ খাতে সফলতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অর্থনীতির প্রায় সকল ক্ষেত্রে যেমন শিক্ষা, উৎপাদন থেকে শুরু করে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নসহ সবকিছুর সাথে জড়িত। এছাড়া নিবন্ধনকৃত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই তথ্য অনলাইনে সহজলভ্য বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হল- সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, মহা- হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং ব্যবস্যায় খাত। এসব প্রতিষ্ঠানে ওপর গবেষণা করে এ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে সফলতা ও দুর্বলতার ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমে দেখা গেছে আইনগতভাবে সবগুলো প্রতিষ্ঠান খুব শক্তিশালী তবে প্রায়োগিকভাবে দুর্বল। গবেষণাটি পরিচালনার সময়কাল ছিল আগস্ট ২০১২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৩।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড ইফতেখারুজ্জামান এবং টি আইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুলতানা কামাল প্রমুখ।

এইচকেবি/