উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দরকার দক্ষ মানবসম্পদ: শিক্ষামন্ত্রী

  • Emad Buppy
  • May 13, 2014
  • Comments Off on উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দরকার দক্ষ মানবসম্পদ: শিক্ষামন্ত্রী
নূরুল ইসলাম নাহিদ
নূরুল ইসলাম নাহিদ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে কর্ম ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। আর এটা উন্নত শিক্ষা, গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশ মঞ্জরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট : ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. একে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক গ্লোবাল রিসার্চ অ্যালায়েন্সের সভাপতি আরএ মাশেলকার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোক্তাদির, ড. আক্তার হোসাইন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন শিক্ষার অর্থ শুধু জ্ঞান নয়। জ্ঞানের সঙ্গে দক্ষতার উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। দেশের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা গেলে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এর জন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক আরও মজবুতও সমন্বয় ঘটাতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বমানের জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন প্রজন্মকে গুণগত পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে তাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ, সততা ও নিষ্ঠার সর্বোচ্চ ব্যবহার থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির দিক দিয়ে দরিদ্র হলেও মেধার দিক দিয়ে দরিদ্র নয়। দেশে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গবেষণা খুব দরকার। নিজেদের সমস্যা সমাধান করার জন্য গবেষণা পদ্ধতির ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। আর এর জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এই ধরনের কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি বিকাশের মাধ্যমে সামগ্রিক উচ্চ শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষে উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অ্যাকাডেমিক ইনোবেশন ফান্ড (এআইএফ) গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে এআইএফ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। বাজারমুখী গবেষণা পদ্ধতি ও ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ফলপ্রসূ ও গতিশীল সুসম্পর্ক স্থাপন উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কর্মশালায় দেশের সকল পাবলিক ও ১০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ, ফার্মাসিউটিক্যাল, বায়োটিক, অ্যাগো প্রসেসিং, সিডস, সিরামিক, টেক্সটাইল, কম্পিউটার ও তথ্যপযুক্তির উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এসইউএম/এআর