উন্নয়নে আলাদা বরাদ্দ চান রাজশাহীবাসী

আমের ঐতিহ্যমণ্ডিত রাজশাহীর  নওদাপাড়ায় আমের প্রতিকৃৃতি
আমের ঐতিহ্যমণ্ডিত রাজশাহীর নওদাপাড়ায় আমের প্রতিকৃৃতি

দেশের সকল অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত হলেই কেবল জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন হতে পারে।আর তাই ব্যবসায়ী ও বিশিষ্টজনের মতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অঞ্চল ভিত্তিক বাজেট প্রনয়ন জরুরি।

রাজশাহী জেলার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরাও তেমনটি মনে করেন। আর তাই আসছে বাজেটে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষ করে রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, নতুন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি, কৃষিখাত ও আম শিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবি তাদের।

তাদের মতে, দেশের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটের পাশাপাশি বিভাগ ভিত্তিক বাজেট প্রয়োজন জরুরি।

বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের বাজেটে সব সময় এক ধরনের আঞ্চলিক বৈষম্য থাকে। যমুনার ওই পাড় যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে বাজেটে বেশি গুরুত্ব পায়। আমরা চাই আসন্ন বাজেটে রাজশাহী যেন এবার বৈষম্যের শিকার না হয়। আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে এনে সুষম উন্নয়নের জন্য রাজশাহীর জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে এমন ক্ষেত্রে, শিল্পায়ন, নতুন খাতে বিনিয়োগ, এখানকার কৃষিখাত ও আম শিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রেখে রাজশাহীর উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় খাতে রাজশাহীবাসী যেন অবদান রাখতে পারে তার ব্যবস্থা সরকার করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর শিল্পায়নের জন্য বড় বাধা হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এখানে গ্যাস আসলেও শিল্প ক্ষেত্রে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শিল্পায়নে গ্যাস সরবরাহের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।

ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বরেন্দ্রের ভূ-প্রকৃতির দিকে খেয়াল রেখে এ এলাকার জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।

এ এলাকায় ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ডিপ টিউবয়েলে পানি উঠছে না। এ এলাকায় ভূ-উপরস্থ পানি সংরক্ষণ করে এ অঞ্চলে কৃষি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প এবং পদ্মা ব্যরাজ স্থাপন করতে এ বছরে বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, জাতীয় বাজেটের পাশাপাশি বিভাগ ভিত্তিক বাজেট প্রনয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জন সংখ্যাভিত্তিক বরাদ্দ দিতে হবে। বিভাগ ভিত্তিক বাজেট না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের চেয়ে বেশি বৈষমের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। বিভাগ ভিত্তিক বাজেটের মাধ্যমে যে অঞ্চলগুলো পিছিয়ে রয়েছে তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এখন যে ধরণের বাজেট প্রনয়ন করা হচ্ছে তাতে করে এক অঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে আর এক অঞ্চল পিছিয়ে পড়ছে। ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে না।

রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে মংলা সমুদ্র বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করে রাজশাহী থেকে সরাসরি রেলে চট্রগ্রামকে যুক্ত করতে হবে। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে উন্নয়ন ও রক্ষার জন্য বাজেটে ৫০ কোটি আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির এর সভাপতি মো. আবু বক্কার আলী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই আমরা মনে করি এবারের বাজেটে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকবে।

রাজশাহী উইমেন চেম্বার সভাপতি দিলারা আমজাদ বলেন, বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয় তা ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে সরাসরি তৃণমূল উদ্দ্যেক্তারা কাজে লাগাতে হবে। ঢাকার বড় ব্যবসায়ীরা এ বরাদ্দের টাকা পেলেও আমরা কিন্তু পাচ্ছি না। সব কিছু ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলার নারী উদ্দ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য সরকারকে নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন।