আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা

বুদ্ধপূর্ণিমা

বুদ্ধপূর্ণিমাশুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। আজ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন। খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ সালে বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন আবার এই দিনই তার মহাপ্রয়াণ দিবস।

মঙ্গলবার মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবতার চরণে ফুল দিয়ে বৌদ্ধধর্মালম্বীরা পাঠ করবেন, পূজেমি বুদ্ধং কুসুমেন তেন, পুঞঞেন মে তেন চ হোতু মোক্খং……। পরে বুদ্ধ পূজা, মহাসংঘদান, মহা অষ্টপরিস্কারদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাদি পালিত হবে। এর মধ্যে জগতের সব প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ প্রার্থনা।

বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা হল সর্ব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য- এটাকে বলা হয় নির্বাণ। নির্বাণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিভে যাওয়া (দীপনির্বাণ, নির্বাণোন্মুখ প্রদীপ), বিলুপ্তি, বিলয়, অবসান। কিন্তু বৌদ্ধ মতে নির্বাণ হল সকল প্রকার দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের কপিলাবাস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধোধন এর পুত্র ছিলেন সিদ্ধার্থ (গৌতম বুদ্ধ)। আজ থেকে ২ হাজার ৫৫৭ বছর আগেমহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্তির তিথি। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার সময়ে হয়েছিল বলে নাম দেওয়া হয়েছি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের এ প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালনের লক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারাও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে পালিত হবে বুদ্ধ পূর্ণিমা। বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে সারাদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গৌতম বুদ্ধের মতাদর্শ শীর্ষক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেবেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।

বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন জানায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানখিন এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অথিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রীমৎ শাসনপ্রিয় মহাথের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের। এছাড়াও বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞ আলোচকমণ্ডলী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে, বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সকাল ৮টায় কমলাপুর ধর্মরাজী বৌদ্ধ বিহার থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ওই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

এমআর/কেএফ