আইনী ধোঁয়াশায় বঞ্চিত অসংখ্য বিনিয়োগকারী

  • mukto rani
  • May 13, 2014
  • Comments Off on আইনী ধোঁয়াশায় বঞ্চিত অসংখ্য বিনিয়োগকারী
khulna printing, খুলনা প্রিন্টিং
khulna printing, খুলনা প্রিন্টিং
খুলনা প্রিন্টিংয়ের আইপিওতে আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবী

খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের আইপিও নিয়ে সৃষ্ট আইনী জটিলতা ও ধোঁয়াশায় বঞ্চিত হয়েছেনঅসংখ্য বিনিয়োগকারী। আগ্রহ থাকলেও তারা আইপিওর শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারেননি। এদের অনেকেই কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উপর ক্ষুব্ধ। তাদের অনেকে ক্ষুব্ধ আবেদন না করতে পারায়, অন্যরা ক্ষুব্ধ এমন মন্দ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করে আইনী জটিলতার দিকে ঠেলে দেওয়ায়।

উল্লেখ, খুলনা প্রিন্টিংয়ের বিরুদ্ধে হিসাব কারসাজির মাধ্যমে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির আইপিও আবেদন জমা নেওয়া কালে চতুর্থ দিনে একটি রীট আবেদনের করলে আদালত আইপিও প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অন্যদিকে আবেদন জমা নেওয়ার শেষ দিন দুপুরে কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা ওই খবর জানার আগেই শেষ হয়ে যায় আবেদনের সময়।

এ ঘটনার পর পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। যেসব বিনিয়োগকারীরা আইনী ধোঁয়াশায় আবেদন করেননি তারা সময় বাড়ানোর দাবি জানাতে থাকেন। অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে আবেদন করে ফেলেছিলেন, তারা সময় না বাড়ানোর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। কারণ জটিলতার কারণে আবেদন কম জমা পড়ায় লটারিতে কম প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। সময় বাড়ালে সে সুযোগ থাকবে না। তবে এদের চেয়ে আবেদন-বঞ্চিতরাই সোচ্চার হয় বেশি। অর্থসূচকে ফোন করে, নিউজে কমেন্টস লিখে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তারা তাদের ২ দিন সময় বাড়ানোর দাবি জানায়।

আইপিওর আবেদনের সময় বাড়ানো নিয়ে বিনিয়োগকারী তারেকুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উচিৎ আবেদন করার জন্য আরও দুইদিন সময় বাড়ানো। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী আইপিও আবেদন করতে পারেনি। অনেকেই এই দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে আবেদনের জন্য যেসমস্ব প্রক্রিয়া তা শুরু করলেও শেষ করতে পারেনি। সেগুলো জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানো উচিৎ।

বিনিয়োগকারী তারেকুল ইসলামের মত আরও অনেক বিনিয়োগকারই অর্থসূচকে ফোন করে বলে, সময় বাড়ানো হোক। এছাড়া অনেক বিনিয়োগকারী অর্থসূচকের প্রকাশিত খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এর প্রতিবেদনে কমেন্ট করেছে, অবশ্যই সময় বাড়ানো উচিৎ বা বাড়ানো হোক। বিনিয়োগকারীদের কিছু কমেন্টস এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত করা হল।

বিনিয়োগকারী বানার্ড হালসানা কমেন্টস করেছেন, ‍‍“সময় বাড়ানো হোক। আমি জমা দিতে পারি নাই। ২০টি আ.পত্র আছে আমার। টিভির খবর দেখে সংকোচে জমা দিতে পারি নি।‍“

 মামুনুর রশিদ রনি লিখেছেন, “টিভির খবর দেখে সংকোচে জমা দিতে পারিনি । আমে ও জমা দিতে চাই……।“

 সাইফুদ্দিন রোকন লিখেছেন, সময় বাড়ানো উচিৎ। কারণ হাইকোর্টের নির্দেশে একদিন জমা নেওয়া বন্ধ ছিল। অনেকে জমা দিতে পারেনি।

জেসি জেরি লিখেছেন, আবেদন জমা নেওয়ার সময় বাড়ানো প্রয়োজন আছে।

এদের মতো আরও অসংখ্য বিনিয়োগকারী কমেন্টেসে লিখেছেন আবেদন জমা নেওয়ার সময় বিএসইসির বাড়ানো উচিৎ।

উল্লেখ্য, এই কোম্পানির আইপিওর আবেদন বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জমা নেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৮ মে পর্যন্ত। আবেদন শুরু হয় ৪ মে থেকে। আবেদন শুরু হওয়ার এক দিন পর ৫ মে, সোমবার বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ কোম্পানিটির আইপিও স্থগিতের দাবিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। এর একদিন পর ৭ মে, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এর চাঁদা গ্রহণ বা আবেদন গ্রহণ স্থগিত করে হাইকোর্ট। এক আইনজীবীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই নির্দেশ দেয়। প্রথমে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই সপ্তাহ স্থগিত থাকার কথা থাকলেও একদিন পর ৮ মে এই নির্দেশ তুলে নেয়।

মাত্র তিন দিনে ১৬২ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছিল এই কোম্পানির আইপিওতে। এর পর আরও জমা পড়ে। তবে তা এই প্রতিবেদনে অপ্রকাশিত রইল।

এর আগে বিএসইসির ৫১২তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই ফেস ভ্যালু ১০ টাকা দরেই এ শেয়ার ইস্যু করা হয়। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, এর শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২ টাকা ৮২ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২৪ টাকা ২৬ পয়সা।

লকপুর গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড করোগেটেড কার্টন উৎপাদন ও প্রিন্টিং করে থাকে। এছাড়া হিমায়িত খাদ্য সংশ্লিষ্ট পলিথিন ব্যাগসহ নানা উপকরণ উৎপাদন করে এ কোম্পানি।

অর্থসূচক/এমআরবি/