অ্যাকর্ডের সাথে মতানৈক্যে বন্ধ কারখানার সংখ্যা বাড়ছে

Garments working
ছবি: ফাইল ছবি
ছবি: ফাইল ছবি

বিদেশি ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শনে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কারখানা। বেকার হচ্ছে অসংখ্য শ্রমিক, বন্ধ থাকছে উৎপাদন। আর এসব কারণে ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের (অ্যাকর্ড) সাথে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে বিজিএমইএর।

জানা গেছে পোশাক শিল্পে অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতোমধ্যে বন্ধ হওয়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯টি পোশাক কারখানা।বেকার হয়েছে ওই সকল কারখানার প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শ্রমিক।

উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় মালিক পক্ষও অসন্তুষ্ট অ্যাকর্ডের প্রতি। এর প্রতিক্রিয়ায় বন্ধ কারখানার সংখ্যা আরও বাড়ছে।

মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার্স সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যালায়েন্স) ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড) কারখানা পরিদর্শন করছে।তাতে অবকাঠামোগত সমস্যা দেখিয়ে বন্ধ হয়েছে এই ১৯টি কারখানা।

সফ্টটেক্স কটন, ফেম নিট ওয়্যার, ডায়মন্ড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিস, ফোর উইংস, ন্যাচারাল সোয়েটার, টিউনিক ফ্যাশন, চেরি প্রাইভেট, জয়া ফ্যাশন, ফ্লোরেন্স ফ্যাশন, আনলিমিটেড ফ্যাশন, অল ওয়েদার ফ্যাশন, ক্রিস্টল অ্যাপারেলস, মেনস অ্যাপারেলস, ডে ফ্যাশন,  ডে অ্যাপারেলস, বায়জিদ ফ্যাশনসের মতো কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

আর জিন্স কেয়ার,প্যাট্রিয়ট গার্মেন্টস,যমুনা ফ্যাশন ওয়্যার,এম-ইওয়া ফ্যাশন,এক্সপোটেক্স ফ্যাশন,টেক্সপোর্ট লিমিটেড,জানস ফেব্রিক্স ও লিবাস টেক্সটাইল লিমিটেড নামের কারখানাগুলো ভবনের লোড কমিয়ে নতুন করে চালু করা হয়েছে।

তবে বন্ধ হওয়া কারখানার কর্মরত শ্রমিক ছিল ১৪ হাজারের বেশি। এখন পর্যন্ত অ্যাকর্ড কারখানা পরিদর্শন করেছে ৫২৫ টি।যার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ৪টি কারখানা। অ্যালায়েন্স পরিদর্শন করেছে ৪৭৫টি কারখানা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মিলে করেছে ২৫২টি কারখানা। এই পর্যন্ত কারখানা পরিদর্শন হয়েছে ১ হাজার ২৫২টি। তবে কারখানা পরিদর্শনে একই নিয়ম না মানা হলে আরও বেশি বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বন্ধ নিয়ে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম অর্থসূচককে জানান, কারখানা পরিদর্শনের সময় অবকাঠামোগত ঝূঁকির কারণে ১৯টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।

কারখানা পরিদর্শন নিয়ে অ্যালায়েন্স দেশিও নীতিমালা মানলেও অ্যাকর্ড তা মানছেন না। তাদের কথা অনুযায়ী পরিদর্শন হলে আরও বেশি কারখানাকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে।তাতে আরও বেশি শ্রমিক বেকার হবে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া কারখানা সংস্কারের সময়ে শ্রমিকদের বেতনের অর্ধেক অ্যালায়েন্স দিতে রাজি হলেও অ্যাকর্ড তা হচ্ছে না। তাতে বেকার শ্রমিকদের বেতনের সুরহা হচ্ছে না। তবে এগুলো মানতে অ্যাকর্ডকে বাণিজ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি লীগের সভাপতি নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি অর্থসূচককে জানান, পরিদশর্নের নামে কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে। তাতে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে। তবে সরকার-সহ মালিকরা শ্রমিকদের বিকল্প চাকরির কোনো ব্যবস্থা করছে না। এটা খুবই অমানবিক।

তিনি কারখানা বন্ধের জন্য নীতিমালা করার দাবি জানান। আর বিকল্প চাকরির ব্যবস্থা না করে কোনো কারখানা বন্ধ না করার দাবি জানান। তিনি আরও জানান, এখন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে আছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে। তাতে ব্যাপক হারে পোশাক শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বেকার শ্রমকিদের চাকরির নিশ্চায়তা দাবি করেন।

সংগঠন দুইটির বাংলাদেশে ২৩০০ কারখানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানা ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা রয়েছে। বাকি কারখানা আইএলও এবং বুয়েট পরিদর্শন করছে। এই জোট দুটির অর্ন্তভুক্ত কোম্পানিগুলো এই সব কারখানা থেকে তাদের পোশাক কিনে থাকে।

বিজিএমইএ বলছে, অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানার চুড়ান্ত পরিদর্শন কাজ শেষ হবে চলতি বছরের জুলাই মাসে। আর অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা চলতি বছরের শেষ নাগাদ সমাপ্ত হবে।