ভারতে সূচকের উল্লম্ফন অব্যাহত, উঁকি দিচ্ছে ধসের শঙ্কা

  • syed baker
  • May 12, 2014
  • Comments Off on ভারতে সূচকের উল্লম্ফন অব্যাহত, উঁকি দিচ্ছে ধসের শঙ্কা
bse
bse
বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (ফাইল ছবি)

নির্বাচন কেন্দ্র করে সূচকের উলম্ফন অব্যাহত আছে ভারতের পুঁজিবাজারে। লোকসভা নির্বাচনের শেষ দিনেও দেশটির পুঁজিবাজারে ছিল বেশ চাঙ্গাভাব। সোমবার প্রধান পুঁজিবাজার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) সেনসেক্স সূচক বেড়েছে ৫৫০ পয়েন্টেরও বেশি। আর নিফটি সূচক গড়েছে ৭ হাজার পয়েন্টের নতুন মাইলফলক। তবে এই উল্লম্ফনের বিপরীতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ধসের আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স বার্তা সংস্থার।

চলতি বছরের ১ জুন পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লোকসভার ১৫তম আসরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ৭ এপ্রিল থেকে লোকসভার ১৬তম আসরের নির্বাচন শুরু করেছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। নয় দফা ভোট অনুষ্ঠানের পর ১২ মে নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং ১৬ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে এবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো কর্তৃক পরিচালিত জরিপে এমন ফলাফল বেরিয়ে আসার পর থেকেই ভারতের পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নয়ন অব্যাহত আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার একদিনেই সেনসেক্স সূচকের উন্নয়ন ঘটেছে ৬৫০ পয়েন্টের বেশি। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধের পর সোমবারেও সেনসেক্স সূচকের উন্নয়ন ঘটেছে ৫৭৮ পয়েন্ট। এই দিন লেনদেনের সময় রেকর্ড ২৩ হাজার ৫৭২ দশমিক ৮৮ পয়েন্টের চূড়া স্পর্শ করে সেনসেক্স সূচক।

তবে সেনসেক্সের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটেছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। সব মিলিয়ে দিন শেষে এই সূচকের অবস্থান দাড়ায় ২৩ হাজার ৫৫১ পয়েন্ট।

এদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) নিফটি সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে এই নিয়ে নিফটি সূচকের উন্নয়ন ঘটেছে ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সোমবার দিন শেষে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে এই সূচকের অবস্থান দাড়ায় ৭ হাজার ১৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।

ভারতের পুঁজিবাজারে সূচকের এই উল্মফন অস্বাভাবিক নয় বলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তারা জানান, নির্বাচনের কারণেই এমনটি ঘটছে। তবে বিনিয়োগকারীদের দেখে-শুনে লেনদেন অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশ্লেষকরা জানান, এখন যেমন উন্নয়ন অব্যাহত আছে, তেমনি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পতনও পরিলক্ষিত হতে পারে। এমনকি মোদি সরকার গঠন করতে না পারলে পতন ধসে পরিণত হতে পারে।

ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবিও এই আংশকায় ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে, ভারতীয় পুঁজিবাজারের অতীত ইতিহাস এই আশংকাকে ঘনীভূত করে তুলছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৭ মে ক্ষমতার পালাবদলের সময় বড় দরপতনের মুখে পড়েছিল ভারতের পুঁজিবাজার। ওই দিন ভারতের লোকসভার ১৪তম আসরের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ওই দরপতন সদ্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের জন্য মাথাব্যথার কারণে হয়ে দাড়িয়েছিল।