দুরত্ব কম হলেও দামের তফাৎ বিস্তর

কাঁচাবাজার
bazar
ফাইল ছবি

পাইকারি বাজার থেকে হাটা দুরত্ব পাঁচ মিনিটের। সেখান থেকে পণ্য কিনে খুব বেশি পরিবহণ খরচ করতে হয় না যাত্রাবাড়ী খুচরা কাঁচাবাজারের ব্যসায়ীদের। তবে দুরত্ব অল্প হলেও দুই বাজারের দামের তফাৎ বিস্তর।রাজধানীর অভিজাত এলাকার বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে রাখা হয় এই বাজারের পণ্যের দাম।

এদিকে অযৌক্তিক ভাবে নিত্যপণ্যে বাড়তি মূল্য সংযোজন করায় ক্রেতারা হরহামেশাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন ওই বাজারে।

নিম্ন আয়ের মানুষের বাজার বলে পরিচিত ওই বাজারে পণ্যের চড়া দাম রাখাকে ‘ডাকাতি’ বলেও মন্তব্য করেছেন ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা পরিবহণ শ্রমিক হারুন পণ্যের দামাদামি করতে করতে বিরক্ত। তিনি জানান, এই বাজারের বিক্রেতারা কারণ ছাড়াই পণ্যের দাম বেশি রাখে। জিনিসপত্র নিয়ে আসতে তাদের খরচ হয় অনেক কম। কিন্তু তারা দাম রাখে বেশি।তারা এক প্রকার ডাকাতি করছে বলেও মন্তব্য তার।

তবে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক ভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য পরিবহন খরচ কম হলেও দোকান ভাড়া গুনতে হয় আগের তুলনায় বেশি। আর এই কারণেই পাইকার থেকে কেনা দামের সাথে বাড়তি দাম যোগ করতে হয়।

সবজি বিক্রেতা আলমগীর বলেন, আগের তুলনায় তাদের দোকান ভাড়া বেড়েছে , এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দামও বেড়েছে কয়েকগুন।

আলমগীরের যুক্তি জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের কিছু বাড়তি দাম রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে দোকান মালিকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোমবার যাত্রাবাড়ী পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে বেশিরভাগ পণ্যের দামের তফাৎটা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। পাইকারি বাজার থেকে কাঁচা মরিচ ৩৫ টাকা কেজিতে কিনে খুচরা ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন ৬০ টাকায়, ঝিঙ্গা ২০ টাকা কেজিতে কিনে ৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকায় কিনে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন। তাছাড়া অন্যান্য তরিতরকারিও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

আজকের বাজার চিত্র:

সবজি:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩০ টাকা, গোল বেগুন ৩৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, আলু ১৮ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, উস্তা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪৫ টাকা ও শসা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কচুর লাতি ৪০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (বড়) ৮০ থেকে ৯০ টাকা, লাউ ৩৫ টাকা, জালি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, লেবু (বড়) প্রতি হালি ২০ টাকা, কাকরল প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা আম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, ফুল কপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাধা কপি ৩০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, সাজনা ৩৫ টাকা, লাল শাক প্রতি আটি ১০ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা, লেটুস পাতা প্রতি পিস ১০ টাকা, ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ২০ টাকা, পুদিনা পাতা প্রতি আটি ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

মুদি:

মুদি দোকানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩২ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২২ টাকা, চায়না রসুন ৭০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, চায়না রসুন ৭০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, একদানা রসুন ১২৫ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান আদা ১৮০ টাকা, কেরালা আদা ২২০ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১০ টাকা ও বোতলজাত তেল ১১৫ থেকে ১১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০৫ টাকা, ইন্ডিয়ান মসুর ডাল ৮৫ টাকা, মুগ ডাল ১২৫ টাকা, আস্ত ছোলার ডাল ৫৫ টাকা, ভাঙ্গা ছোলার ডাল ৫০ টাকা, খোলা চিনি ৪২ টাকা ও পেকেটজাত চিনি ৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

চাল:

বাজারে প্রতি কেজি (পুরাতন) নাজির শাইল চাল ৫২ টাকা, নাজির শাইল (নতুন) ৪৮ থেকে ৫০ টাকা,পুরাতন মিনিকেট চাল ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা, নতুন মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, লতা আটাশ চাল (নতুন) ৩৬ টাকা, লতা আটাশ (পুরাতন) চাল ৩৮ টাকা, পুরাতন মোটা চাল ৩৬ টাকা, পুরাতন পাইজাম ৩৫ টাকা ও পারিজা ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও জিরা নাজির প্রতি কেজি ৫০ টাকা, চিনি গুড়া ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, বি আর আটাশ ৪১ টাকা, বি আর উনত্রিশ ৪০ টাকা, হাসকি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ টাকা ও লাল বিরই চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম:

বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম ২ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৩৮ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৩৫ টাকা ও হাসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা করে।

মাছ :

আজকে যাত্রাবাড়ীর খুচরা বাজারে ৮০০ গ্রাম ওজনের একজোড়া ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়, প্রতি কেজি কাতল মাছ (বড়) ৩৮০ টাকা, বড় সাইজের রুই ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না পুটি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ টাকা, বড় সাইজের চিংড়ি প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, চাষের কৈ ২৮০ টাকা, সিলভার কাপ ১৪০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা, নলা মাছ ১৬০ টাকা, কার্ফু মাছ ২৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

মাংস :

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ২৮০ টাকায়, খাসির মাংস ৪৮০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৪২০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৩০ টাকা, হাঁস প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ও কবুতরের বাচ্চা প্রতি জোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা করে।

এমআরএস