কৃষিপণ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ

সবজি, ফল ও চা
সবজি, ফল ও চা

চলতি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রথম ১০ মাসে কৃষিপণ্যে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে পিছিয়ে আছে আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব মতে, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কৃষিখাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের একই সময়ে এই খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলার।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জুলাই থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত কৃষিখাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫১ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার।

এ সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে শুষ্ক খাবার রপ্তানিতে। এইখাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।

এই খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলার। আর অর্জিত হয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থ বছরের একই সময়ে শুষ্ক খাবার রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল ৩ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার।

কৃষিখাতে রপ্তানির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চা। চা রপ্তানির ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে গত ১০ মাসের অর্জন। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ের মধ্যে চা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে এই সময়ের মধ্যে আয় হয়েছে ২৯ লাখ মার্কিন ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি রপ্তানি করে কৃষিখাতের তৃতীয় স্থানে রয়েছে সবজি। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রথম ১০ মাসে সবজি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৬৬ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থ বছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই খাতে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার। এই সময়ে তামাকের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে।

চা এবং সবজি রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ফলমূল রপ্তানির ক্ষেত্রে। কৃষিখাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে ফলমূল। লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫১ দশমিক ০৪ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে এই খাত থেকে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রথম ১০ মাসে এই খাতে প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এর থেকে আয় হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থ বছরের একই সময়ের অর্জনের চেয়েও ৪৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম এটি। গত অর্থবছরে এই সময়ের আয় ছিল ৬ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার।

মসলাজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২ কোটি মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে এই খাতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১৩ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ কম। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও ২ দশমিক ১১ শতাংশ কম।