১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি কর ফাঁকি

  • Emad Buppy
  • May 8, 2014
  • Comments Off on ১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি কর ফাঁকি
Bajet
Bajet
সুপ্র আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বক্তারা

দরিদ্রদের কাছ থেকে কর আদায়ে সফল হলেও দেশের ধনী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কর আদায়ে ব্যর্থ সরকার। গত ১০ বছরে ধনী সম্প্রদায়ের কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৯৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট ‘দরিদ্রবান্ধব প্রত্যক্ষ কর নির্ভর বাজেট চাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় সভায় বক্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরের রাজস্ব আয়ে প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ কর থেকে আয় হয়েছে বেশি। ২০১৩-১৪ সালে রাজস্ব আয়ে প্রত্যক্ষ কর ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও পরোক্ষ কর ৬১ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। বাজেটে প্রত্যক্ষ করের বিষয়টি প্রাধান্য পেলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করেন বক্তারা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারপার্সন মোস্তাফিজুর রহমান খান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান।

প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, দেশে অতি দরিদ্রের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিসংখ্যানে ২০ শতাংশ জনগণ অতি মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এ অবস্থান থেকে তুলে আনতে ও মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে আগামি বাজেটগুলোতে সরকার এই খাতে বরাদ্দ বাড়াবে।

জেলা বাজেট ও আইন প্রণয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে জেলা সরকারই নেই, সেখানে জেলা বাজেট কতটা অর্থবহ হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এছাড়া বাজেটের সময়কাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজেট বিশেষজ্ঞ ও অর্তনীতিবিদেরা সরকারের কাছে যুক্তিনির্ভর দাবি উত্থাপন করলে তা সরকার বিবেচনা করবে।

চিকিৎসকদের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি দেয় তার সুফল বাস্তবে পাওয়া যায় না। চিকিৎসাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও সাধারণ জনগণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। দেশের উপজেলাগুলোতে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও দু-একজনের বেশি ডাক্তার উপজেলায় থাকতে চায় না।

এ সময় অঞ্চলভিত্তিক দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরে সুপ্র নেতারা। জেলা বাজেট আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ ও জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করাসহ ১৬টি দাবি উত্থাপন করা হয়। এছাড়া বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থবছরের শুরুর পরিবর্তে জানুয়ারি অথবা ডিসেম্বর থেকে অর্থবছর গণনা করার দাবি জানান বক্তরা।

আগামি অর্থবছরে আয়কর হবে ৩৮ শতাংশ যেখানে ভ্যাট থাকবে ৩৫ শতাংশ। রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দেওয়া এমন বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে বাস্তব প্রতিফলন দেখাতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

সুপারিশে অঞ্চলভিত্তিক দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঢাকার পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্প, খুলনায় ফিস প্রসেসিং জোন তৈরি, সিলেটে চা শিল্প, বরিশালে মৎস্য হিমাগার স্থাপন ও সেতু নির্মাণ, রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজ, রংপুরে পাট, চিনি ও রেল খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।

সংগঠনের নির্বাহী সদস্য আবদুল আউয়ালের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম শিরিন আখতার, অক্সফামের অ্যাসোসিয়েট কান্ট্রিডিরেক্টর এ্যারি সুরম্যানস, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক এম. আবু ইউছুফ প্রমুখ।

এমআর/এমই