‘দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দেশের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করবে’

  • তপু রায়হান
  • May 8, 2014
  • Comments Off on ‘দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দেশের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করবে’
‘গুম ও অপহরণ: নাগরিক উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে আলোচকরা
‘গুম ও অপহরণ: নাগরিক উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে আলোচকরা

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার আগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে তাদের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ছে। ফলে তারা ভাড়াটে খুনিতে পরিণত হচ্ছে। প্রশাসন এই দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতি মুখোমুখি হতে হব বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে অরাজনৈতিক সংগঠন সুজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গুম ও অপহরণ: নাগরিক উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে আলোচকরা এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এ সময় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অস্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় তারা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে আইন-শৃংখলা বাহিনী ও রাজনীতির উপর সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের সাথে র‌্যাব জড়িত। এর প্রমাণ পাওয়ার পর দায় মুক্তির জন্য সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট তিন জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তিনজন র‌্যাব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় র‌্যাব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সরকার এই হত্যার কারণ জানেন বলে তাদের অব্যহতি দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার জনগণের পরিবর্তে র‌্যাব-পুলিশের কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। তারা সরকারের ঘাড়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। নাগরিক সমাজ এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেই এর সমাধান করা সম্ভব।’

মান্না বলেন, ‘অপরাধ করার পর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে অপরাধীরা। কিন্তু বিরোধীদলের কোনো নেতারা অসুস্থ হলেও তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে অহেতুক তাদেরকে জেলে পাঠাচ্ছে।’

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সরকার অন্যায় কাজে ব্যবহার করেছে। তাই তারা টাকার বিনিময়ে হত্যার সাহস পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, চেইন অব কমান্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে। র‌্যাব গঠিত হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। সর্বক্ষেত্রে সকল কাজে ব্যবহারের জন্য নয়। র‌্যাবের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।’

গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে এই অপরাধ কমে আসবে। এর জন্য সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে।’

তত্ববধায় সরকারে সাবেক উপদেষ্ট এ.এস.এম. শাজাহান বলেন, ‘যে সমাজে আইনের শাসন নেই সেই সমাজে সমস্যার সমাধান নেই। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যে ভাবে বেআইনি কাজ করছে, তাতে এক সময় এটা মহামারী আকার ধারণ করবে। যা জাতির ধ্বংস বয়ে আনবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে ক্ষমতা ও কালো টাকা ব্যবহারের অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে। তা থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বিচারপতি কাজী ইবাদুল হক বলেন, ‘গুম-খুন-অপহরণ হবে। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে বিচারকরা বিচার করতে পারবে না, তা হলে বিচার বিভাগ রাখার প্রয়োজন কি? বিচারকদের প্রতি অনাস্থা থাকলে তো আপনি নিজেই বিচার করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা সব সময়ই আলামত রেখে যায়। এটাকে যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন সেটা প্রকাশিত হবেই। অভিজ্ঞ লোক দিয়ে তদন্ত করলে হত্যাকাণ্ডের সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে।’

অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, ‘অশুভ শক্তির প্রতিনিধিরাই আমাদের দেশকে পরিচালনা করছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নারায়নগঞ্জের ঘটনা ঘটেছে। সরকার না চাইলে কখনোই এসব পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব না।’

সুজনের সভাপতি এম. হাফিজের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও সুজনের নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার।

সম্পাদক ড. বদিউল আলমের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজনের সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, সদস্য মো. জাহাঙ্গীর, আবদুর রহমান প্রমুখ।

জেইউ/