কালো টাকায় সূচক লাল

dsex, ডিএসইসিএক্স
dsex, ডিএসইসিএক্স
বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট কমে যায়

টানা পতনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক ঠুনকো হয়ে গেছে। তাই ছোট্ট কোনো সংবাদেই কাবু হয়ে পড়ছে বাজার। বৃস্পতিবার কালো টাকা সাদা করতে না দেওয়ার খবরে ফের এটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। উর্ধমুখী ধারায় লেনদেন শুরু হয়েও ওই খবরের সঙ্গে সঙ্গে বাজার দিক বদলায়। মূল্যসূচক সবুজ থেকে লাল হয়ে যায়।

রোববারের দর পতনের সঙ্গে আশাভঙ্গের আরও একটি বিষয় জড়িত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া আছে মুনাফা তুলে নেওয়ার ঘটনা।

রোববার মূল্যসূচকের উর্ধমুখী ধারায় লেনদেন শুরু হয় বাজারে। বাড়তে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির লেনদেন। এ ধারা চলে মাত্র আধা ঘন্টা। বেলা ১১ থেকে মূল্যসূচক আবার নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দর হারাতে থাকে একের পর এক কোম্পানি। দিন শেষে দর হারানো কোম্পানির সংখ্যা দর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কোম্পানিকে ছাড়িয়ে যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন অংশ নেওয়া ২৯৮ টি কোম্পানির মধ্যে ১৪৮ টির মধ্যে ১০৯ টির বা ৩৮ শতাংশের শেয়ারের দাম বাড়ে। বাকী ৬২ ভাগের দাম কমে যায় অথবা অপরিবর্তিত থাকে। ডিএসইএক্স কমে ২০ শতাংশের কিছুটা বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, আশাভঙ্গ আর মূল্য সংশোধনের প্রভাবে বৃহস্পতিবার বাজারে দর পতন ঘটে। তাদের মতে, দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের আশাভঙ্গ হওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়ে। তার মধ্যে রয়েছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক।

উল্লেখ, নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কিছু বক্তব্যে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে এমন আশাবাদ তৈরি হয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে তিনি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে। গত সপ্তাহে অর্থ প্রতিমন্ত্রীও গণমাধ্যম বলেন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকতে পারে। আর তাতেই বিনিয়োগকারীদের ভেতর আশা জন্মে পুঁজিবাজারের জন্যেও হয়তো কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। এমনটি হলে তারল্য প্রবাহ বাড়বে, বাজার আরও গতিশীল হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট সংক্রান্ত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামি বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না। আর তার পরপরই বাজার নিম্নমুখী হতে থাকে।

অন্যদিকে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনেক বিনিয়োগকারী আশা করেছিলেন, বৈঠকে বাণিজ্যক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অবস্থান নমনীয় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। উল্লেখ, জানুয়ারির শেষভাগে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন শেয়ার কেনার বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলে। তখন থেকেই পতন শুরু হয় বাজারে। বুধবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বাস দিয়েছে, এখন থেকে তারা এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করবে। কিন্তু আগের নির্দেশনা প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বৈঠকে, কোনো আশ্বাসও মেলেনি। এতেও বিনিয়োগকারীরা আশাহত হয়।

অন্যদিকে আগের তিন দিনের উর্ধগতিতে কিছু শেয়ারে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছান অনেক বিনিয়োগকারী। বৃহস্পতিবার তাদের অনেকে মুনাফা তুলে নেন। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে।