সরকারের পর্যবেক্ষক দল আগে পৌঁছালে রানা প্লাজা ট্রাজেডি ঘটতো না

  • তপু রায়হান
  • April 23, 2014
  • Comments Off on সরকারের পর্যবেক্ষক দল আগে পৌঁছালে রানা প্লাজা ট্রাজেডি ঘটতো না

rana plazaসরকারি পর্যবেক্ষক দল যথা সময়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছালে রানা প্লাজা ধসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম সচিব মিকাইল শিফার।সেই সাথে  ওই ঘটনায় নিহত ১৭৩ জন শ্রমিকের পরিবার এখনও কোনো সরকারি অনুদান পায়নি বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে  সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘রানা প্লাজার এক বছর’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এসব কথা জানান।

শ্রম সচিব বলেন, ‘সরকার হিসেবে আমাদের দায় দায়িত্ব ছিলো সবার আগে। আমরা এই দায়িত্ব কোনো ভাবেই এড়াতে পারি না। যদি সরকারের পর্যবেক্ষক দল আগে পৌঁছাতে পারতো তবে হয়তো এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না’।

রানা প্লাজার শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারী পক্ষের প্রতিনিধি শিরিন হকও এতো বেশি মৃত্যুর জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন,  রানা প্লাজার শ্রমিকদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে  চরম সমন্বয়হীনতা ছিলো। যার কারণে অনেককে বাঁচাতো সম্ভব হতো। এছাড়া আন্তর্জাতিক উদ্ধার দল আসতে চেয়ে ছিলো তবে সরকার তার অনুমতি দেয়নি।

সরকার অনুমতি দিলে হয়তো আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা যেত বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ওই ঘটনায়  ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা হিসাবে প্রধান মন্ত্রীর তহবিল থেকে এই পর্যন্ত ১৫ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এদেরকে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

তবে ওই ঘটনায় নিহত ১১৩৫ জনের মধ্যে  ৯৬২ জনকে এই সহায়তা দেওয়া হলেও সনাক্ত করতে না পারায় ও ওয়ারিশ খুঁজে না পাওয়ায়  ১৭৩ শ্রমিক পরিবার এখনও কোনো সহায়তা পায়নি।

সচিব জানান, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রধান মন্ত্রীর তহবিল থেকে ২৩ কোটি ৫৫ লাখ ৭২০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে সংগঠনটি ২ কোটি টাকা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া গুরতর আহত ৩৬ জনকে ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান শ্রম সচিব।

তিনি জানান এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ১১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের মধ্যে ১১১৭ জনকে ওই সময়ে মৃত উদ্ধার করা হয়। ১৭ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তাছাড়া কারখানার বর্জ্য অপরণের সময়ে এক জনের মাথার খুলি পাওয়া যায়।

অ্যাকশন এইডের আজগর আলী জানান, এখনও ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগদান করতে পারেনি। এখনও অনেকে অসহায় জীবন জাপন করছে। তিনি জানান, ৯ দশমিক ১ শতাংশ শ্রমিক কাজ পেয়েও  প্রকৃত যোগাযোগ না থাকার কারণে  কাজে যোগদান করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দোকার গোলাম মোয়াজ্জেম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন হামিদা হোসেন, সুজনের সেক্রেটারি বদিউল আলম মজুমদার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, শামিমা নাসরিন, জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার-সহ ফায়ার সার্ভিস ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।