ফরিদপুরে বেড়েছে তামাক চাষ: ক্যান্সার আতংকে নারী-পুরুষ

তামাক

তামাকফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকহারে তামাকের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরা শক্তি। এছাড়া তামাক প্রক্রীয়াজাতকরণের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ক্যান্সারসহ স্বাস্থ্যগতভাবে নানা রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষ।

এদিকে দৈনন্দিন কৃষকের মজুরী বৃদ্ধির কারণে কৃষক পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা সরাসরি তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় শারীরিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

১০ থেকে ১২ বছর আগেও ফরিদপুরের কোথাও তামাকের আবাদ হতো বলে কারো জানা নেই। কিন্তু গত ৮/৯ বছর আগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী ও পরে একই উপজেলার হাসামদিয়া এলাকার মাঠের দুই-একটি জমিতে তামাকের আবাদ করতে দেখা যায়। এরপর থেকে ক্রমেই ওই এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় বাড়তে থাকে তামাকের আবাদ। বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ তত্বাবধান ও আর্থিক প্রলোভনে ফরিদপুর জেলার সদর, বোয়ালমারী, মধুখালী ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠের কৃষি জমিতে এখন ব্যাপকহারে তামাকের আবাদ হচ্ছে।

যানা গেছে, অন্যান্য ফসলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অপরদিকে তামাক আবাদে কোম্পানিগুলোর সহযোগীতা পেয়ে তা আবাদে আগহী হচ্ছে তারা।

তামক চাষীরা জমির ক্ষতির কথা জানার পরও তামাকের আবাদ করছে। তারা কোনভাবেই তামাক আবাদের বিষয় নিয়ে কোন প্রকার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তবে অনেকেই স্বীকার করেন কোম্পানির লোকেদের প্ররোচনায় তারা তামাক আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

চাষীদের পরিবারের নারী সদস্যরা জানান, তামাক জমি থেকে বাড়িতে আনার পর শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিজেরাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে তামাক প্রক্রীয়াজাত করে থাকেন। তাদরে মতে, তামাকে শারীরিক কোন ক্ষতি হয় না।

অনেকেই জানান, যে জমিতে ধান, পাট, গমের আবাদ করা হতো সেই সকল জমিতেই এখন তামাকের আবাদ হচ্ছে। ধান পাটের আবাদ করে বার বার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে শুধুমাত্র লাভের আশায় তামাক আবাদ করে কৃষক। তাদের দাবি, ধান পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে তারা (কৃষকরা) তামাকের আবাদ বন্ধ করতে পারে।

শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের কৃষি বিভাগের শিক্ষক সোহেল মিয়া জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরা এলাকায় তামাকের আবাদ বাড়চ্ছে। আর বেশি লাভের স্বপ্ন দেখিয়েই চাষীদের তামাক আবাদে আগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে।

তবে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক শংকর চন্দ্র তামাক প্রসঙ্গে কোন কথা বলতে চাননি। তিনি জানান যারা তামাক চাষাবাদ করছেন তারা নিজেদের উদ্যোগেই করছেন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. সিরাজুল হক তালুকদার জানান, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িতরা ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ক্রনিক ব্রংকাইটিস ক্রনিক এ্যাজমাসহ নানাবিধ রোগেও আক্রান্ত হতে পারে।

ফরিদপুর জেলায় তামাকের আবাদ এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে ২৮ হেক্টর জমিতে। তামাক মাটির সার পদার্থ প্রচুর পরিমাণে খেয়ে জমিকে ধীরে ধীরে অনুর্বর করে ফেলে।

এতে ওই সকল জমিতে কয়েক বছরের মধ্যেই অন্য কোন ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। তাই সম্ভাবনা থেকে যায় ভবিষ্যত খাদ্য ঘাটতির।

অপর দিকে এখনি তামাকের আবাদ ঠেকানো না গেলে অচিরেই ফরিদপুরে জেলায় আগ্রাসি ভুমিকায় চলে যাবে তামাক। তাই তামাকের আবাদ বন্ধের দাবি সচেতন মহলের।

এমআইটি/সাকি