পানির জন্য বিএনপির দরদ বেড়েছে: হানিফ

Mahbub Ul Alam Hanif

মাহবুব উল আলম হানিফবেগম জিয়া ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও আলোচনা করেননি অথচ আজ তাদের পানির জন্য দরদ বেড়েছে। এমনই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে খালেদা রাষ্ট্রীয় সফরে যখন ভারতে গিয়েছিল তখন এজেন্ডায় থাকা সত্ত্বেও পানি নিয়ে আলোচনা করেননি। অথচ তিনি বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন পানি নিয়ে আলোচনা করতে ভুলে গেছেন। অথচ আজ তারা পানির জন্য লংমার্চ করছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা শীর্ষক  আলোচনা সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এখন লংমার্চের নামে বিএনপি নাটক করছে। এটা আপনাদের ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছু না। আন্দোলনের নামে কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাচ্ছেন। এটা জনগণ বুঝে গেছে।

লংমার্চ করে কোন দাবি আদায় করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রীয় সমস্যা। এর সমাধান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। ভারতে নির্বাচনের পরই এই সমস্যার স্থায়ী ভাবে হবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, দশম জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে আমাদের নতুন সরকার গঠিত হয়েছে । এখন ভারতেও নির্বাচন চলছে। সেখানেও নতুন সরকার আসবে। এই নতুন সরকারের সাথে আলোচনা করে তিস্তা সমস্যার সমাধান করবো।

একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা তারেককে দিয়ে এসব কথা বলিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারেক জিয়া স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাব দিতে আমার রুচিতে বাধে। স্বাধীনতা নিয়ে এই ধরনের বক্তব্য গণ্ড মূর্খতার সামিল।

তারেক রহমান ইতিহাস বিকৃতি করছে এমন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বক্তব্য ছিল মূর্খের মত তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এটা তার নিজের কথা নয়। এটা আমরা যাদের বিরুদ্ধে ৭১সালে মুক্তিযুদ্ধ করে  স্বাধীনতা লাভ করেছি সেই পাকিস্তানের কথা।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান তারেককে দিয়ে এইসব বিকৃতিমূলক কথা বলাচ্ছে যাতে করে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আমরা তাদের এই উদ্দেশ্য কোন দিন পূরণ হতে দেব না। জনগণও আপনাদের এই স্বপ্ন সফল হতে দেবে না। কারণ ইতিহাস সত্য যা দেশের মানুষ জানে।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাবি সিনেট সদস্য অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বলরাম পোর্দ্দার, এমএ করিম প্রমুখ।
জেইউ/সাকি