পোশাক শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি ও যৌথ পরিচয়পত্রের দাবি

  • Emad Buppy
  • April 22, 2014
  • Comments Off on পোশাক শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি ও যৌথ পরিচয়পত্রের দাবি
garment

garmentপোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি এবং সরকার ও বিজিএমইএর যৌথ পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি জানালেন বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরাম।

একই সাথে রানা প্লাজায় নিখোঁজদেরকে মৃত ঘোষণা করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে “রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক বছর: গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং আজকের বাস্তবতা শীর্ষক” সেমিনার আলোচনা সভায় সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি শিরিন আক্তার এমপি বলেন,  পোশাক কারখানায় একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। একে অপরকে দায়ী করে এগুলোর দায়ভার যেন কেউ এড়াতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সবধরনের দায়ভার সরকার ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং পুনর্বাসন করতে হবে। যারা দেশ গড়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাদের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানান তিনি।

সভায় এশিয়ান মনিটর রিসোর্চ সেন্টার (হংকং) গবেষক মিস ওমানা জর্জ বলেন, “আমরা এশিয়ার ১৪টি দেশে কাজ করছি। রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা  প্রায় দেশেই ঘটছে। প্রত্যেকটি ঘটনা একই ধরনের। এসব দুর্ঘটানা জন্য এশিয়ায় ভালো আইন আছে, তবে সাধারণত আইনের কোন প্রয়োগ হয় না। তাই এধরনের দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেজন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ দরকার।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হয় শ্রমিকদের উৎপাদনের ভিত্তিতে। কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিকই প্রশিক্ষণ ছাড়া কাজ করে। তাই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কম। আর এই জন্য শ্রমিকরা মজুরিও পায় কম।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় সরকারি তহবিলে ১২৭ কোটি টাকা জমা হলেও বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা। বাকি টাকা কোথায়, কেন দেওয়া হচ্ছে না- এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আর ও বলেন, বাকি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো চিন্তাও করছে না সরকার। তাছাড়া বিদেশি বায়াররাও প্রায় ১৩০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে তারও কোন হিসাব নেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়েক সেন বলেন, শ্রমিকের ন্যূনতম নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এই নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। আর এই জন্য সরকার শ্রমিক নিরাপত্তা বাজেট রাখতে পারে। আবার সহজ শর্তে ঋণ দিতে পারে। যাতে মালিকরা ফ্যাক্টরি আধুনিকায়ন করতে পারে।

নারী শ্রমিক বিষয়ক গবেষক ড. বিনা শিকদার বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো, অথচ তাদের জন্য সরকার কী করেছে? পদে পদে তারা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। কর্মক্ষেত্রে যেমন তারা অনিরাপদ ঘরেও তারা অনিরাপদ। তাই তাদের স্বাস্থ-চিকিৎসা, বাসস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় সেমিনারে বক্তারা প্রোডাকশন (উৎপাদন) অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো, কাজের মাঝখানে ১৫ মিনিট বিরতি ও একই সাথে তাদেরকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান।

সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, নারী শ্রমিক বিষয়ক গভেষক ড. বিনা শিকদার, সংগঠনের সদস্য সচিব জাকির হোসেন প্রমুখ।

জেইউ/এআর