গরমে অতিষ্ট নগরবাসী, তেষ্টা মিটছে ফুটপাতের শরবতে

juceগত কয়েক দিন ধরে তীব্র দাবদাহে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে কর্মব্যস্ত নগরবাসী।তাঁতালো রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত।খুব সকালের ঝলমলে রোদ ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে ঝড়াতে থাকে তাপ। বাড়তে থাকে অসহ্য গরমের তীব্রতা।

তবে নাগরিক জীবনে মানুষকে এই অসহ্য গরম উপেক্ষা করেই ছুটতে হচ্ছে নিজ কর্মস্থলে। আর কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হলেই বৈশাখের দাবদাহে শরীর থেকে পানির পরিমাণ কমতে থাকে। খানিক হাটাচলাতেই যেন তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়।

তাই তীব্র গরমে কর্মব্যস্ত নগরবাসীর তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশেই গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরণের শরবত, কোমল পানীয় ও মৌসুমি ফলের ভাসমান দোকান। লোক সমাগম বেশি এমন জায়গায় আনারস, তরমুজ, বেল, ডাব, কাঁচা আম, শসা ইত্যাদি নানান ফল নিয়ে ভীড় করছেন বিক্রেতারা।

পথচারিরাও ভ্যাপসা গরম থেকে একটু প্রশান্তির আশায় ভিড় করছেন শরবতের দোকানে। পাঁচ থেকে দশ টাকা দিয়ে একগ্লাস শরবত পান করে আবার ছুটছেন গন্তব্যে।এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মৌসুমী ব্যাবসায়ীরাও অল্প পুঁজি খাটিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন দ্বিগুণ টাকা।

তবে এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই ময়লা ও দূষিত উপাদান দিয়েই শরবত তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফুটপাতের এই সব পানীয় পান করার স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে কলেরা হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘এই সব পানীয় বেশিরভাগ সময়ই তৈরি হয় খোলা পরিবেশে, ময়লা ও দূষিত উপাদান দিয়ে।’

তিনি বলেন, এসব পান করার ফলে টাইফয়েড, জণ্ডিস ও ডাইরিয়ার মতো মারাত্মক সব রোগ হতে পারে।

তবে সরকার চাইলেই এই মানব দেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই সব পানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় বিভিন্ন সময়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান চলে। হোটেল রেস্তোরায় অভিযান চললেও ফুটপাতের এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তারা তেমন ব্যবস্থা নেন না।

তবে দূষিত উপাদান দিয়ে এই সব পানীয় তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করলেন বিক্রেতারা।

শরবত ব্যাবসায়ী রমজান মিয়া জানান, বছরের অন্য সময় কাজ না থাকলেও বৈশাখের এই সময়টাতে তিনি গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন। আগের কয়েক বছর রাস্তার পাশে ফল বিক্রি করলেও চাহিদা ভালো থাকায় এবার দিয়েছেন শরবতের দোকান।প্রতিদিন একহাজার থেকে দেড়হাজার টাকা বিক্রি করতে পারেন। দুই মাস ব্যাবসা করে লাভের এই টাকা দিয়ে সারা বছর নিজের খরচ চালাতে তার কোনো কষ্ট হয় না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে ব্যবসায় আমার সারা বছর খাওয়া পড়া চলে তাতে ভেজাল বা ময়লা দেব কেন? আমি ভেজাল দিলে আল্লাহ সইবে না।

পল্টন মোড় এলাকায় দেখা গেছে, দোকানিরা প্রতি প্লেট তরমুজ ও আনারস বিক্রি করছেন ১০ টাকায়, মাঝারি আকারের একটি ডাব ৫০-৬০ টাকা, প্রতি গ্লাস আখের রস ১০ টাকা, এক গ্লাস লেবুর শরবত ৫ টাকা, বেলের শরবত ও মিক্সড ফ্রুট শরবত ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

তরমুজ খেতে আসা ক্ষুদ্র কাপড় ব্যাবসায়ী আরিফ হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। চাকরি করতে হয় বলে অসহ্য গরম উপেক্ষা করেও অফিসে আসতে হয়। তাই শরীরটা একটু ঠান্ডা রাখতেই তরমুজ খেয়ে নিচ্ছেন তিনি।

তবে আরেক ক্রেতা আবু সাইদ জানান, তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে এই সব খাচ্ছেন তিনি। কিন্তু আতঙ্কে থাকেন বড় কোনো রোগ বেধে না যায়!

তিনি জানান, সচারাচর তিনি এইসব খান না। কিন্তু এবার গরমের যে অবস্থা তাতে করে রাস্তায় বেড়িয়ে জীবনটা কোনো মতে বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে এসব খাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামি কয়েক দিনে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই কাঠফাটা রোদে আরো কিছুদিন নগরবাসীকে কষ্ট করে যেতে হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এআরএস