গণপরিষদেই বঙ্গবন্ধু প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন: এইচ টি ইমাম

এইচটি ইমাম

এইচটি ইমামগণপরিষদেই বঙ্গবন্ধু প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং বাংলাদেশের ওই গণপরিষদেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা অনুমোদিত হয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে গণপরিষদের বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট ও তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম এসব কথা বলেন।

এ সরকারের চেইন অব কমান্ডও ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। সুগঠিত এ সরকারে বৈদেশিক সমর্থন, সহযোগিতা ও বহিঃবিশ্বের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। যার ফলে এ সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির বিষয়ে ভারতের সহযোগিতায় সমগ্র বিশ্বের সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্যাপক কার্য-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে উপদেষ্টা অসুস্থ হয়ে পড়লে আলোচনার সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তারের পরিচর্যায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। এবং আলোচনা শেষ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, পৃথিবীতে যুদ্ধ করে যে কয়টি দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যেহেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে সেহেতু শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশে একমাত্র নেতা ও বৈধ মুখপাত্র। তাই এ বৈধ নেতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র নায়ক।

২৭ মার্চ মেজর জিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেই স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। কাজেই মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেই কেবল রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পর্যায়ের সকল স্তরে একশ নম্বরের ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অদ্ভ্যূদয়’ নামক কোর্সটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, সুদুর লন্ডনে বসে বাংলাদেশের ইতিহাস নতুনভাবে  বিকৃত করার অপপ্রয়াস করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জনসাধারণ কখনো মেনে নিবে না। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর এসব অসত্য ও বানোয়াট ইতিহাস বর্জন করে সঠিক ইতিহাস চর্চা করা উচিত।

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমের  সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোদেজা খাতুন এবং সঞ্চালনা করেন প্রভাষক এস. এম. তানভীর আহমদ।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এফ. এম. শরিফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম শিশিরসহ অন্যান্য ছাত্রনেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এম আই/সাকি