কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

apartmentআসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের  বাজেটে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালোটাকা) বিনিয়োগের সুযোগ আগামি পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর  দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সাথে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে প্রথম ফ্ল্যাট ক্রয়ে আয়ের উৎস প্রদর্শন না করে ক্রয়ের সুযোগ চেয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানায় সংগঠনগুলো। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষে এনবিআর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশনের সাথে এ আলোচনা করছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, কর্মকর্তা ও নির্মাণ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আালোচনায় রিহ্যাবের সহ সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের সাথে আবাসন খাত জড়িত। সরকার ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে।  তবে এ সময়টি সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ছিল। ফলে এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও এর কোনো সুফল ব্যবসায়িরা পায়নি। এ খাতকে রক্ষায় বাজেটে আগামি ৫ বছর এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িদের আয়কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে সরকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িদের আয়কর কিছু হ্রাস করেন। গত অর্থবছরের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আবাসন খাত আবারো গভীর সংকটে পতিত হয়।

আগামি বাজেটে আবাসিক এলাকায় (গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল) প্রতিবর্গ মিটারে ব্যক্তি আয়কর ১৬০০ থেকে ১০০০ টাকা ও অনাবাসিক এলাকায় ((গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল) ৬৫০০টাকা থেকে ৫০০০ টাকা করার দাবি করেন।

একই সাথে আবাসিক এলাকায় (ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, ডিওএইএস, কাওরান বাজার, খুলশী, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ) আয়কর ১৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং অনাবাসিক এলাকায় (ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, ডিওএইএস, কাওরান বাজার, খুলশী, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদ) ৫ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা করার দাবি করের তিনি। আর অন্যান্য আবাসিক এলাকায় ব্যক্তি শ্রেণীর আয়কর ১৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার করার প্রস্তাব করেন তিনি।

জমির উচ্চমূল্য, নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ডেভেলপারের মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় আয়করের পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে আনার পক্ষে যৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি।

রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কর ও ডিউটি হ্রাস করার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, সার্কভূক্ত দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় উচ্চ থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ খাত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছেন।

তিনি রেজিস্ট্রেশনে গেইন ট্যাক্স, ষ্ট্যাম্প ট্যাক্স, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ করে, মূল্য সংযোজন কর ১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

গৃহায়ন শিল্পে সেকেন্ডারি বাজার প্রচলনের প্রস্তাব করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গৃহায়ণ শিল্পের জন্য ৬.৫ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি কর নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি মার্কেট চালু করা যেতে পারে।

দেশে বর্তমানে গৃহায়ণ শিল্পের জন্য কোনো সেকেন্ডারি বাজারের ব্যবস্থা নেই। সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করলে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বেকার সমস্যা দূর ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে। এখাতে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা প্রচলনের দাবি জানান তিনি।

গৃহায়ণ শিল্পের যন্ত্রপাতি, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিনা শুল্কে আমদানির সুযোগ চেয়ে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে ২ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। অতি উচ্চ মূল্যে কেনা যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্পে ব্যবহার করলে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে ক্রেতাদের সামর্থ্যের মধ্যে আবাসন সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তিনি গৃহায়ণ ও নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন রিকন্ডিশন্ড যন্ত্রপাতি, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর থেকে ডেভেলপারদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করে লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, সম্প্রতি সময়ে সাপ্লায়ার ও ভেন্ডারদের কাছ থেকে ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের জন্য ডেভেলপারদের সংগ্রহকারি হিসেবে চিহিৃত করে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজপত্র জব্দের নামে হয়রানি ও অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি সাপ্লায়ার ও ভেন্ডারের ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহকারির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান তিনি।

বাংলাদেশ লীডারশীপ ইন এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (এলইইডি) সাটিফাইড ভবনের আয়কর রেয়াত দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে পরিবেশ সম্মত এনার্জি এফিসিয়েন্ট এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি ভবন নিমার্ণে উৎসাহিত করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ফি সঠিকভাবে আদায় হলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেত। ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে কেন সুফল পায়নি সে বিষয়ে রিহ্যাবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে সম্পূর্ণ জনস্বার্থে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে কেন তা সফল হয়নি তা গবেষণা করে এনবিআরকে জানাতে বলেন তিনি। একই সাথে আগামি অর্থ বাজেটে এ সুযোগ কিভাবে দেওয়া হবে তাও গবেষণা করা হবে বলে জানান তিনি।