হিরো-নিলয় চুক্তি; দেশেই তৈরি হবে হিরো মোটরসাইকেল

hero-niloyদেশি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি। কিন্তু মানসম্পন্ন পণ্যের অভাবে অধিকাংশ ক্রেতাই বাধ্য হয়ে বিদেশি পণ্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তবে মোটর সাইকেল ক্ষেত্রে এই আক্ষেপের দিন শেষ হতে চলেছে। এই প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ মোটর সাইকেল তৈরি হতে চলেছে বাংলাদেশে। তাও বিশ্বের সেরা স্পেলেন্ডার, প্যাসন, হাংক এবং ডিসকভারের মতো ব্র্যান্ডের। এই লক্ষ্যে বিশ্বের বৃহত্তম মোটর সাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিরো মোটর কর্পোরেশন এবং দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপ যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নিটল নিলয়ের গ্রুপ চেয়ারম্যান আবদুল মতলুব আহমেদ এবং হিরো মোটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পবন মুনজাল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী এবং নিটল নিলয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুসাব্বির আহমেদসহ বিনিয়োগ বোর্ড এবং ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।

চুক্তি অনুযায়ী, হিরো এবং নিলয় মটরের যৌথ অংশীদারিত্বে আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।  এই বিনিয়োগের আওতায় গাজীপুরে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা স্থাপন করা হবে, যেখান থেকে প্রথমবারের মতো দেশে সম্পূর্ণ মোটর সাইকেল তৈরি হবে।

চুক্তি অনুসারে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই কারখানা কার্যক্রম শুরু হবে। এই কারখানায় প্রায় বছরে দেড় লাখের মতো বিশ্বমানের মোটর সাইকেল উৎপাদিত হবে যা বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি নিটল-নিলয় এবং হিরো উভয় পক্ষকে স্বাগত জানাই। এই ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাত শক্তিশালী করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জ্ঞান ভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমেই আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ সত্যিই আনন্দের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল। হিরো নিলয়কে নির্বাচিত করাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি হয়েছি।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মতলুব আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে দেশে তৈরি মোটর সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দেশের প্রতিটি শহরে আমাদের শো রুম খুলে আমরা সেবা গ্রাহকদের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।

হিরো কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পবন মুনজাল বলেন, ভারতের বাইরে এটাই হিরোর প্রথম কারখানা। নিটল-নিলয়কে এই কাজে অংশীদার হিসেবে পেয়ে আমি খুব আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী আমাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমরা এই উদ্যোগে শামিল হয়েছি। নিটলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা উভয়ই এগিয়ে যেতে পারব এমনটিই আশা।

উল্লেখ্য, দেশে এর আগে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পার্টস সংযোজনের মাধ্যমে মোটর সাইকেল তৈরি হলেও সম্পূর্ণ ভাবে মোটর সাইকেল তৈরির ঘটনা এটাই প্রথম।