পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ৩১ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে

  • Emad Buppy
  • April 21, 2014
  • Comments Off on পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ৩১ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে
টিআইবি সংবাদ সম্মেলন

টিআইবি সংবাদ সম্মেলনরানা প্লাজা দুর্ঘটনাপরবর্তী  দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায় হতে জোরালো চাপ সৃষ্টির পর তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীদারেরা। এতে ৩১ শতাংশ উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। আর ৬০ শতাংশ উদ্যোগ বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রগতির পথে রয়েছে। তবে ৯ শতাংশ উদ্যোগ এখনো ফলপ্রসূ হয়নি।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে “তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতি” শীর্ষক ফলোআপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশ করেছে।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান ছিলেন।

সভায় তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়ে যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন। শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে সরকার, মালিকপক্ষ এবং বায়ারদের একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ খাতে অধিকাংশ নারী শ্রমিক কাজ করে। তারা তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা এবং যথাযথ প্রাপ্য এখনও পায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণাভুক্ত ৬৩টি বিষয়ের মধ্যে বিভিন্ন অংশীজন কর্তৃক ৯টি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বাকি ৫৪টি বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনকর্তৃক বৃহৎ দৃষ্টিতে ১০২টি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কারখানা বন্ধ হয়েছে ২০ থেকে ৫০টি, প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। আরও কারখানা বন্ধ ও প্রায় ৫ লাখ শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, রানা প্লাজা পরবর্তী তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও অংশীদারদের ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে। তবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন পর্যায়ে সমন্বয়হীনতার রয়েছে। এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠনে বায়ার ফোরাম ও মালিককর্তৃক কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ গার্মেন্টস বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, ক্রেতা মালিক অংশগ্রহণে স্থায়ী পোশাক শিল্পপল্লী স্থাপন করা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্ডার বাতিল, শ্রমিক ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধের ঝুঁকি নিরসনে ক্রেতা, মালিক ও সরকার কর্তৃক বিশেষ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করেন তারা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কলকারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

তিনি আরও বলেন, পোশাক খাতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নেওয়া আমাদের মাঝে হতাশার জন্ম দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মো. রফিকুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড শরীফ আহমদ চৌধুরী এবং সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

এইচকে/এআর