চাঁদা মাছ কিনছেন নাকি রক্তপিপাসু পিরানহা

  • Emad Buppy
  • April 21, 2014
  • Comments Off on চাঁদা মাছ কিনছেন নাকি রক্তপিপাসু পিরানহা
piranha

piranhaদেখতে অনেকটা রুপচাঁদার মতো। তাই মাছ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ কাউকে পেলেই মাছের নাম সমুদ্রের ছোট্ট রুপচাঁদা বলে পিরানহা গছিয়ে দেন মাছ বিক্রেতারা। মাছের বাজারের আগুন কিংবা পকেটের স্বাস্থ্যটা বিবেচনা করে অনেকেই কম দামে কিনে নেন রক্তপিপাসু পিরানহা।

‘এই চাঁদা মাছ লন ১০০’। ধানমণ্ডির লামাবাজারে এক মাছ বিক্রেতা এভাবেই পিরানহাকে রুপচাঁদা বলে বিক্রি করছিলেন। ক্রেতার সংখ্যাও কম নয়। চড়া দামের আগুনে বাজারে অন্য মাছের চেয়ে পিরানহার দামটাই হাতের নাগালে। তার ওপর সমুদ্রের চাঁদা মাছ বলে কথা। বাজারে রুপচাঁদা মাছ দুর্লভ যদি পাওয়া যায় তবে  দাম কেজি প্রতি হাজারের অধিক হওয়ার কথা। তারপরও ক্রেতারা অবলীলায় পিরানহাকে চাঁদা মাছ ভেবে ক্রয় করছেন।

কথা হলো লামাবাজার থেকে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী আজগর আলীর সাথে। তিনি ৯০ টাকা দরে ৩ কেজি পিরানহা ক্রয় করেছেন। পিরানহা কেন ক্রয় করছেন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে আমি ভেবেছিলাম এটা সামুদ্রিক কোনো মাছ। ওরা তো বলল এটা চাঁদা মাছ। এ সময় তিনি মাছগুলি ফেরত দিতে চাইলে বিক্রেতা তা ফেরত নেয়নি।

এ প্রসঙ্গে লামাবাজারের মাছ বিক্রেতা কামালকে প্রশ্ন করা হলে সে প্রতিবেদককে বিভিন্ন ধরনের যুক্তিতর্ক দিয়ে মাছগুলি চাঁদা মাছ বলেই দাবি করতে থাকে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে অভিযোগ করার লক্ষ্যে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাজার কতৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

শুধু লামাবাজার থেকে নয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ পিরানহা মাছকে চাঁদা মাছ ভেবে ক্রয় করে ঠকছেন। দেশের আইনে পিরানহা চাষ কিংবা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

‘পিরানহা’ নামের মাছটি মূলত আমাজন নদীর একটি ভয়ঙ্কর মাছ। ‘মানুষখেকো’ হিসেবেও অনেকে এই মাছটিকে চেনে। থাইল্যান্ড থেকে কিংবা অন্য কোনো সূত্রে এ মাছ আমাদের দেশে ঢুকে পড়ে। গত ৬-৭ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ পিরানহা মাছটির চাষ হয়ে আসছে এবং বাজারে বিক্রি হয়ে আসছে।

‘চান্দা মাছ’ কিংবা ‘সামুদ্রিক চান্দা’ হিসেবে এটিকে চালানো হচ্ছে। মাছটি ‘মাংসাশি’ হওয়ায় এর স্বাদও বেশ ভালো। এছাড়া দামটাও কম বলে মাছটিকে সাধারণ মানুষ বাজারে এটাকে গ্রহণও করেছিল। মাছের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও শিক্ষক সকলেই এই মাছটির চাষ এবং বাজারজাতকরণ দ্রুত বন্ধ করার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কারণ বাংলাদেশ একটি মৎস্য বৈচিত্র্যসমৃদ্ধ দেশ যেখানে ২৬০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। পিরানহা মাছটি দেশের অধিকাংশ ছোট মাছকে প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত করে ফেলবে। তাই দেশের আইনে এ মাছটির চাষ, উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে বিক্রয় এবং বাজার থেকে ক্রয় সবই সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

তারপরও বাজারে কিভাবে এই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আজগর আলী বলেন, শহুরের মানুষ তাই মাছ ভালভাবে চিনি না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উচিৎ এই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো। এই ক্ষতিকর মাছ যাতে বাজারেই আসতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার দাবি জানান তিনি।

এমআর/এএস