প্রথমবারের মতো ডুবন্ত ফেরির ভেতর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

  • sahin rahman
  • April 20, 2014
  • Comments Off on প্রথমবারের মতো ডুবন্ত ফেরির ভেতর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

ferryডুবে যাওয়ার চার  দিন পর  ফেরির ভেতর থেকে এই প্রথম বেশ কিছু মৃতদেহ বের করে আনা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, জানালার কাঁচ ভেঙ্গে এ পর্যন্ত ১৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে  মৃতের সংখ্যা  দাঁড়িয়েছে ৪৯ এ। এখনো  ২৫৩ জনেরও বেশি যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে যাদের বেশিরভাগই শিশু। খবর বিবিসির।

এদিকে উদ্ধারকাজ ধীর গতিতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যাত্রীদের আত্মীয়রা। তাদেরকে বলা হয়েছে, এই উদ্ধারাভিযান দু’মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণায় তীরে অপেক্ষারত স্বজনদের অনেকেই উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন।  সকাল থেকে তারা রাজধানী অভিমুখে র‌্যালী বের করার চেষ্টা পুলিশ তাদেরকে ধামিয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাগরে তীব্র স্রোত এবং শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারাভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

এর একদিন আগে গ্রেপ্তার হওয়া ফেরির ক্যাপ্টেন লি জুন সিওক  নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া জাতির কাছে আমি দুঃখিত, লজ্জিত আমি। কারণ ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে ফেরিতে অবস্থানরত যাত্রীদের বাইরে আসার আদেশ দিতে দেরি করে ফেলেছি আমি। এই মুহূর্তে নিজের দায় স্বীকার ছাড়া আমার বলার কিছু নেই”

তিনি বলেন, ডুবে যাওয়ার সময় ফেরিতে যাত্রীদের অবস্থা দেখে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম, ভয়ও পেয়েছিলাম। ফলে ভুলেই গিয়েছিলাম সবকিছু। তিনি বলেন, “আমি জানি না, এখন আমার কী করা উচিত”।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাপ্টেন লি জুন সিওককে দায়িত্বে অবহেলার জন্য উন্মুক্ত জলসীমায় অপরাধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন বা ম্যারিটাইম ল’র মুখোমুখি হতে হবে।  ফেরি ডুবে যাওয়ার পর একটি স্থানীয় আদালত ক্যাপ্টেন ও তার দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ লিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, চালক সহ অন্য আরেকজন ক্রু এবং ফেরির ক্যাপ্টেন এখন পুলিশের হেফাজতে আছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েকশ যাত্রী নিয়ে ফেরিটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ইচিওন থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন দ্বীপ জেজুতে যাচ্ছিল। এর অধিকাংশ যাত্রীই ছিল একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। তারা শিক্ষাসফরে যাচ্ছিলেন।

এস রহমান/