পুঁজিবাজারে দ্বৈত কর প্রত্যাহার ও করপোরেট কর কমানোর দাবি বিএমবিএ’র

  • বার্তা কক্ষ
  • April 20, 2014
  • Comments Off on পুঁজিবাজারে দ্বৈত কর প্রত্যাহার ও করপোরেট কর কমানোর দাবি বিএমবিএ’র
বিএমবিএ এনবিআর, bmba nbr

বিএমবিএ এনবিআর, bmba nbrআগামি অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫)  বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কর সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনস (বিএমবিএ)। সংগঠনটি দ্বৈতকরের অবসানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ছাড় সুবিধার দাবিও জানিয়েছে।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে বিএমবিএ নেতারা এ দাবি করেন। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বিএমবিএ।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কর নীতির সদস্য আমিনুল ইসলাম, বিএমবিএ সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন সান্নামাত, নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

বিএমবিএ সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন সান্নামাত বলেন, নানা জটিলতায় পুঁজিবাজারের প্রণোদনা প্যাকেজ কোনো কাজে আসছে না। বিএমবিএ’র কাছে তহবিলের অর্থ দিলে এমন অবস্থা হবে না। তাই পুঁজিবাজারের স্বার্থে আগামি বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা হলে বিএমবিএ’র মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীকে ঋণ পেতে হলে ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ দিতে হয়। বিএমবিএকে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ৫ শতাংশ হারে ঋণ দেয় তাহলে বিনিয়োগকারীদেরকে ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে ঋণ দিতে পারবে। এতে করে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, বিনিয়োগকারীদেরকে মওকুফ করে দেওয়া ঋণের ওপর কর প্রত্যাহার, করপোরেট কর ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা।

নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক আর্থিক প্রতিষ্ঠাকে ১ শতাংশ করে সাধারণ প্রভিশনিং করতে হয়। ওই প্রভিশনিংয়ের ওপর টেক্স মওকুফ করার দাবি জানায় বিএমবিএ।

অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদেরকে ঋণ দেওয়ার পর, যদি এমন মনে হয় যে এই ঋণ আর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলে বার্ষিক প্রতিবেদনে যদি সেটিকে অবলোপন করা হয়। তাহলে ওই অবলোপনকৃত অর্থের ওপর টেক্স মওকুফের দাবি।

বিধি অনুসারে, তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানিকে তার মুনাফার ওপর কর দিতে হয়। আবার ওই মুনাফার ভিত্তিতে বিতরণ করা লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা হয় ১০ শতাংশ উৎসে কর। অর্থাৎ একই আয়ের ওপর কর দিতে হয় দুইবার। যেসব বিনিয়োগকারীর আয় করযোগ্য- তারা কেটে রাখা করের সঙ্গে সামগ্রিক করের সমন্বয় করার সুযোগ পান। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের আয় করযোগ্য নয়- তারা কেটে রাখা কর সমন্বয়ের সুযোগ পান না; আবার তা ফেরতও পান না। তাই আগামি বাজেটে এ ডাবল টেক্সেশন মওকুফ করার দাবি করে বিএমবিএ।

এদিকে, দীর্ঘমেয়াদে যারা বিনিয়োগ করবে, তাদেরকে টেক্স কমিয়ে দেওয়ার দাবি করেন তারা। এতে করে বাজার স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে। যেমন বর্তমানে যদি কোনো বিনিয়োগকারীকে ১০ শতাংশ টেক্স দিতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে তাদেরকে এ টেক্স কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বিএমবিএ।

এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা উচিত- যাতে দেশজ উৎপাদ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে দেশ পরিচালনার জন্য এই বাজেট থেকে যথাযথভাবে অর্থ সম্পাদন করার বিষয়টিও যেন নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন, “আমরা অনেকের লিখিত বক্তব্য পেয়েছি, আজকেও শুনেছি; আমরা আপনাদের কথাগুলো বিবেচনা করবো।”

অর্থসূচক/জিইউ