নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের দাবি

woman-enterprenureদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নারী শিল্প উদ্যোক্তা সমিতি। সেই সাথে উদ্যোক্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেবা দিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্যও জায়গা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেনে সংগঠনটির নেতারা।

রোববার সংগঠনটির নেতারা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে বৈঠককালে এ দাবি জানান।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের কল্যাণে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিকাশমান অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান ১০ -১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তা আছে। নতুন করে অনেক এগিয়ে আসছে।’

এই অবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই খাতটির জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা। সংগঠনটির নেতারা এসময় তাদের নানা কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তারা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ ও ঋণ প্রাপ্তিতে এ সংগঠন সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে গ্রাম পর্যায়ে দক্ষ নারী উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে বলে তারা জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, নারীদের উৎপাদনের ধারায় সম্পৃক্ত করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করছে। দেশে দক্ষ নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন এবং বিসিকের মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বেসকয়েকট ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়াই ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা গ্রুপ গঠন করে ৫০ হাজার বা তার অধিক পরিমাণ ঋণ নিতে পারেন। বিশেষ ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশিও ঋণ নিতে পারেন। এসএমই খাতের পূর্ণ অর্থায়নের ১৫ শতাংশ নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নারীর মুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তা ও গৃহিনীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।