জয়ই সংগ্রামী মানুষের শেষ কথা : সেলিনা হোসেন

ru

ru‘অতীতের ভালো অনুপ্রাণিত করে বর্তমানকে। সেখান থেকে উজ্জীবিত হয়ে দুর্যোগ, দুঃসময়ে রুখে দাঁড়ায় মানুষ। পরাজয় নয়, জয়ই সংগ্রামী মানুষের শেষ কথা। এই আশাবাদ জাগিয়ে রাখে লেখক।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) আয়োজিত ‘লেখার উপকরণ, লেখার কৌশল’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এসব কথা বলেন। রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাহমান জীবন থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। বিচ্ছিন্ন হয় না তার ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জীবন সংগ্রাম। এই নিয়ে গড়ে ওঠে একটি জাতির আবহমানকালের সম্পদ। এখানকার যা কিছু গুরুত্ব বহনকারী তাকে উপস্থিত করতে হয় পরবর্তী প্রজন্মের সামনে। যেন কেউ ভুলে না যায় তার ঐতিহ্যকে, যেন বিভ্রান্ত না হয় চাপিয়ে দেওয়া কোনো মতবাদে।’

লেখার জন্য অঙ্গীকার প্রয়োজন। প্রয়োজন সামজিক দায়বদ্ধতার। শুধু শিল্পের জন্য শিল্প নয়। মানুষের কথা মানুষের কাছে বলার জন্যই লেখা। যা মানুষের ভালমন্দ, শুভ বোধকে দিকনির্দেশনা দেবে।’ বক্তৃতায় তিনি তার লেখনির বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মানবজাতির জন্য যা অমোঘ উচ্চারণ তা লেখার মধ্য দিয়ে টিকে থাকে। এ সত্যটুকু বুকে আঁকড়ে ধরে লিখতে চাই।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘লেখক তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে বিনিময় করেন। এটাই সাহিত্যের প্রয়োজন পূরণ করে। লেখক কখনো মারা যায় না। দৈহিকভাবে মারা গেলেও তার লেখার মধ্য দিয়ে কালে কালে, সমাজে সমাজে বেঁচে থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বাংলা নববর্ষ বক্তৃতা ১৪২১’ শীর্ষক এ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মিজানউদ্দিন, উপউপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। সভাপতিত্ব করেন আইবিএসের পরিচালক প্রফেসর এম শহীদুল্লাহ।

এমআই/সাকি