জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় যুবকদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস

জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তনবিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের এ ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশে মানসম্পন্ন ও সঠিক প্রকল্পের ঘাটতি রয়েছে।  আর এ ঝুঁকি মোকাবেলায় সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্পন্ন প্রকল্প হাতে নিলে যুবসমাজকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে স্পেকট্রা সেন্টারে জলবায়ু বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ দু’দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজ আমরা যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি তার জন্য শুধুমাত্র আমরা নই বরং উন্নত বিশ্বের অতি মাত্রায় কার্বন নিঃসরণই দায়ী। তবে তা আমাদের সৃষ্ট না হলেও দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এ দুর্ভোগকে সীমাহীন করে দিচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।

 তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্ভোগ এখন শুধু বাংলাদেশকেই মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশকেই এর ফলভোগ করতে হচ্ছে। তাই এ ঝুঁকি মোকাবেলায় এখন সামগ্রিক প্রচেষ্টা অত্যান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর কাজে অত্যান্ত আন্তিরক সরকার। এ লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ সুশীল সমাজের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও কার্বন নিঃসরণ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায়।sealevel

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জলবায়ু সংক্রান্ত  বাংলাদেশ ক্লাইমেট স্ট্রাটেজি এন্ড একশন প্লান  প্রণয়ন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড ও বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ডও গঠন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সালিমুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে হলে সরকার, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগীসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যথার্থভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা জনসচেতনতা তৈরিতে সাহায্য করবে।

সভায় জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এজন্য বাংলাদেশের জনগণ এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে দলবদ্ধ ও গোষ্ঠীগতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণ তাদের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবহার করে ও নিজস্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। এরমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল, ক্ষরা পীড়িত অঞ্চল, ঘূর্ণিঝড় প্রবণ অঞ্চল ও বন্যাপীড়িত অঞ্চলের মানুষ যারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তারা এ পরিবর্তনের সাথে ভালভাবেই মানিয়ে নিচ্ছে।

এইচকেবি/এইউ নয়ন