বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে: তানজিল চৌধুরী

  • Emad Buppy
  • April 19, 2014
  • Comments Off on বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে: তানজিল চৌধুরী
BMBA

OLYMPUS DIGITAL CAMERAবাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেই পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স আসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি তানজিল চৌধুরী।

আজ শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এর প্রতিফলন এখনো বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করি, আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের ওপর গুরুত্ব দেবে সরকার।’

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বাজারে ট্রেড ভলিউম বাড়লে বাজার ভালো হবে। তাছাড়া, পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আগামিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

এছাড়া আগামিকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসবে বিএমবিএ। সভায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএমবিএ সভাপতি।

এ প্রসঙ্গে বিএমবিএ সদস্য আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বিএমবিএ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটা লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আগামি বাজেটে (২০১৪-১৫) পুঁজিবাজারের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

বিধি অনুসারে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানিকে তার মুনাফার ওপর কর দিতে হয়। আবার ওই মুনাফার ভিত্তিতে বিতরণ করা লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা হয় ১০ শতাংশ উৎসে কর। অর্থাৎ একই আয়ের ওপর কর দিতে হয় দুই বার। যেসব বিনিয়োগকারীর আয় করযোগ্য তারা কেটে রাখা কর তার সামগ্রিক করের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পান। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের আয় করযোগ্য নয়, তারা কেটে রাখা কর সমন্বয়ের সুযোগ পান না। আবার তা ফেরতও পান না।

অন্যদিকে, স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠানও (বর্তমানে ট্রেকহোল্ডার) কর বৈষম্যের শিকার। আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো আগে লিমিটেড কোম্পানি ছিল না। কিন্তু ২০০৬ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ডাবল, ট্রিপল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।

আগে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো মুনাফার ২৫ শতাংশ কর দিয়েই মুনাফার বাকি অর্থ খরচের অধিকার পেতেন। অর্থাৎ, কোনও ব্রোকারেজ হাউস যদি এক কোটি টাকা মুনাফা করে, তাহলে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে ৭৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারতেন। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউসকে লিমিটেড কোম্পানি করায় তাকে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ এক কোটি টাকা মুনাফা হলে প্রথমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। এরপর সে ওই টাকা খরচ করতে পারে না। খরচের অধিকার পেতে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হচ্ছে। আবার ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। এরপর ১৫ শতাংশ ফাইনাল ট্যাক্স দিতে হয়। এতে লিমিটেড কোম্পানির মোট ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার স্বত্বাধিকারী হয়। এখানেই বৈষম্য থাকছে ২৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানিকে ডাবল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ তাকে ৫৩ দশমিক ১২৫ কর পরিশোধ করতে হয়। অথচ লিমিটেড কোম্পানি করার আগে এসব ব্রোকারেজ হাউস মাত্র ২৫ শতাংশ কর দিত। কিন্তু লিমিটেড করায় তাকে দ্বিগুণের বেশি কর দিতে হচ্ছে।

এছাড়া ২০১৪ সালের মধ্যে মার্জিন ঋণ সমন্বয় করার কথা রয়েছে। এটা ব্যক্তি পর্যায়ে করার প্রস্তাব রাখবে বিএমবিএ।

তিনি আরও বলেন, বাইরের দেশের পুঁজিবাজার থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। কারণ আমাদের দেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে জবাবদিহিতা নিশ্চত করতে সেলফ রেগুলেটরি এবং কর্পোরেট গভর্নেন্স থাকা উচিৎ।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানজিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল এবং অ্যাসোসিয়েশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএ/এআর