‘নো ওয়াটার, নো ট্রানজিট, নো বিজনেস’

পানি-ট্রানজিট-চিনি

পানি-ট্রানজিট-চিনিভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো মরে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার কৃষক। এই কারণে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হওয়া উচিত- ‘নো ওয়াটার, নো ট্রানজিট, নো বিজনেস’ বলে জানালেন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) নেতারা।

একই সঙ্গে ভারতের সাথে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দরকার বলেও মত দেন তারা।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বীরউত্তম খাজা নিজামুদ্দিন মিলনায়তনে পিডিপি আয়োজিত ‘সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিডিপির চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অভিন্ন নদীর পানি বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এবং একতরফা পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ন্যায্য পানির হিস্যার ক্ষেত্রে তারা কখনই ন্যায়নীতি অনুসরণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রয়োজনে এখনই শক্ত অবস্থানে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে লড়াই সংগ্রামের পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গণের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত ও স্থায়ী আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে ‘শুধু দেব কিন্তু পাব না’ এই ধরণের দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের নীতি থেকে বাংলাদেশকে সরে আসতে হবে। ভারতের দাবি অনুযায়ী ট্রানজিট ও করিডোর প্রদান, একতরফা বাণিজ্য সুবিধা প্রদান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার পূর্বশর্ত হবে তাদেরকেও আমাদের সকল ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নিতে হবে।  এ সময় তিনি ভারতের সঙ্গে থোক চুক্তি বা প্যাকেজ ডিল সম্পাদনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানেরও আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশকে অভিন্ন নদীর পানি থেকে বঞ্চিত করা ভারতের তথাকথিত আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নেরই অংশ। এই প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও পরিবেশ বিধ্বংশী কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশের নয় আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ সেই জন্য ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- পিডিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ বদিউল আলম, যুগ্ম-মহাসচিব আমির হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেহানা সালাম, ঢাকা মহানগর সদস্যসচিব মাসুদুজ্জামান প্রমুখ।

জেইউ/সাকি