আবাহনীর প্রথম হার

Abuhany

Abuhanyপ্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল অবাহনী। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শকশূন্য আবাহনীর গ্যালারি দেখে বুঝার কোনো উপায় ছিল না যে, মাঠে আবাহনীর খেলা চলছে। ম্যাচের একমাত্র আত্মঘাতী গোলটিই ঢাকার ফুটবলে বারবার ইতিহাস সৃষ্টি করা আবাহনীকে উপহার দিল একটি শোকাবহ রাত।

কয়েকদিন আগে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে নিজ দলের সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। ফলশ্রুতিতে গতকালের ম্যাচে আবাহনীর সমর্থকেরা নিজেদের পাশাপাশি অন্য সমর্থকদেরও গ্যালারিতে প্রবেশ করতে দেননি।

সমর্থকশূন্য খেলার প্রথম ৩৮ মিনিটেই আত্মঘাতী গোল খেয়ে যায় আবাহনী। গোলরক্ষক সোহেল কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নাসিরের ব্যাক পাসটা আবাহনীর জালে ঢুকে যায়। আপ্রাণ চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আবাহনী।

এবারের লিগে আবাহনীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে জালের ঠিকানা খুঁজে না পাওয়া। প্রথম পর্বের নয় ম্যাচে মাত্র নয়টি গোল করতে পেরেছেন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। এর মধ্যে ঘানার স্ট্রাইকার ওসেই মরিসনের গোলই তিনটি। এ যেন ঢাকার ফুটবলের চিরচেনা একটি দলের সম্পূর্ণ অচেনা রূপ। তাই ম্যাচ শেষে আবাহনী কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমির কন্ঠেও হতাশার সুর ফুটে উঠলো। চিৎকার করে বারবার বললেন, স্ট্রাইকিং প্রবলেম…..,স্ট্রাইকিং প্রবলেম। গতকালের ম্যাচে আবাহনীর আক্রমনভাগের খেলোয়াড়েরা যেন একরকম নিজেদের ভিতরেই নিজেরা হারিয়ে গিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ফুটবলে এরকম দর্শকশূন্যতা এর আগে কখনোই দেখা যায় নি। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই সমর্থকরা গ্যালারির সামনে কালো পাতাকা টানিয়ে দেয়। কারণ খুঁজতে গিয়ে সমর্থক গোষ্ঠীর নেতা এনাম-ই-খুদা জুলুর কাছ থেকে জানা গেল, ক’দিন আগে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে মোহামেডানের কাছে হেরে গিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর নেতৃত্বে মিশু, সোহেল, শওকত, প্রাণোতোষ ও শাহেদ দর্শকদের ওপর চড়াও হন। এর প্রতিবাদেই গতকাল আবাহনীর সমর্থকরা তাদের খেলা বর্জন করেন।

এমআরএস