তাহলে পক্ষপাতিত্ব করেন কেন?

manobbondon

manobbondonসম্প্রতি বারডেম হাসপাতালে ‘নিহত’ সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা নাসরিন অভিযোগ করেছেন আলোচিত বারডেম ঘটনাটিতে সরকার একপাক্ষিক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত না করে  পক্ষপাতিত্ব করছেন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের হত্যাকারী চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

ফারহানা নাসরিন প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা তো বাংলাদেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আপনারা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত না করে কেন পক্ষপাতিত্ব করছেন?

তিনি অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আর তাতে সমর্থন জানিয়েছেন মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মানববন্ধনে ফারহানা বলেন, বারডেম চিকিৎসরা ভুল চিকিৎসা করে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আবার উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই চিকিৎসক লাঞ্চিত ও হাসপাতাল ভাংচুরের অভিযোগ করেছে।

তিনি বলেন, আমার বাবা ১৩ তলায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ম তলায় ভাংচুরের অভিযোগ করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই দিন সেখানে র‌্যাব ও পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাহলে কিভাবে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে? তারা দায় এড়াতে এখন মিথ্যা কথা বলছে।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সবার প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ এই ঘটনার বিচার করুন। আমার বাবা-মা দুইজনই মারা গেছেন। এখন আমরা এতিম হয়ে পড়ছি। দয়া করে ঘঠনার সুষ্ঠু তদন্ত করুন।

ফারহানা বলেন, একদিকে আমরা বাবা-মাকে হারিয়েছি অন্যদিকে বারডেম কতৃপক্ষ আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। এটা খুবই অমানবিক।

আমরা রমনা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। অথচ বারডেম কতৃপক্ষের মামলা নিয়েছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখানে সম্পূর্ণ পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। এদেশে ডাক্তাররা অন্যায় করলেও তাদের কোনো বিচার করা হয় না।

এ সময় সিরাজুল ইসলামের হত্যাকারী চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

মানবব্ন্ধনে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানান নিহত সিরাজুল ইসলামের আত্নীয়-স্বজনরা।

মানবন্ধনে সিরাজুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন, বড় ভাই হারুনুর রশিদ, জাতীয় প্রেসক্লাব কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ-সম্পাদক চাঁন মিয়া, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহারসহ প্রেসক্লাবের সকল কর্মচারীরা উপস্তিত ছিলেন।

জেইউ/এএস