ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে সমঝোতা

  • syed baker
  • April 18, 2014
  • Comments Off on ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে সমঝোতা
surprise deal about ukraine

surprise deal about ukraineঅবশেষে ইউক্রেন সমাধানে সমঝোতায় পৌঁছেছে দেশটির সরকার এবং রাশিয়া। বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ এই ঐক্যমত্যয় পৌছায়। খবর এএফপি বার্তা সংস্থার।

সমঝোতা অনুসারে সকল পক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে একযোগে কাজ করবে এবং ইউক্রেনে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর থেকে সব ধরনের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের অবশ্যই নিরস্ত্র করতে হবে এবং দখলকৃত সম্পদ অবশ্যই প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে হবে। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর ইচ্ছা কখনোই রাশিয়ার ছিল না।

তবে, বৈঠকে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ক্রিমিয়া সম্পর্কে কোন আলোচনা হয়নি। এই সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, আমরা এই অঞ্চল ব্যাপারে আশা ছেড়ে দিচ্ছি না, তবে আমরা এখানে ক্রিমিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে আসিনি।

এদিকে ইউক্রেন দিয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে ঐক্যমত্যয় পৌছেছে রাশিয়া এবং ইইউ। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ এই ঐক্যমত্য পৌছায়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলো। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তারাধিকার হিসেবে রাশিয়া সবসময় ইউক্রেনে নিজের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানান রাশিয়া সমর্থক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ’র মদদে দেশটিতে চলমান আন্দোলনের চাপে ইয়ানুকোভিচ সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্তৃত্ব হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠতা রাশিয়ানদের শংকাকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। এরই প্রেক্ষিতে, রুশ জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত ক্রিমিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে রাশিয়ার সাথে যোগদানের প্রস্তাব পাঠায়। ক্ষমতাসীন ইউক্রেন সরকার এবং পশ্চিমাদের পক্ষে এই কাণ্ডে নীরব দর্শক ভূমিকা পালন করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। কিন্তু তাতে মনের ঝাল মেটেনি রাশিয়ান সরকারের। বিশেষ করে, গত কয়েক দিন ধরে খারকিভ, ডনেটস্ক, স্লেভিয়ানিস্ক এবং লুহানস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান অন্তত পক্ষে তাই প্রমাণ করে।

কিন্তু এবার আর নীরব থাকেনি ইউক্রেন। বরং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সেনাবাহিনী ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করে দেশটির সরকার। এরই প্রেক্ষিতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হলে সকল পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়।