অপহরণের কারণ নিয়ে থাকতে হচ্ছে ধোঁয়াশায়

rejyana

rejyanaঅক্ষত অবস্থায়ই ফিরে এসেছেন আবু বকর সিদ্দিক। অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পরে মাঝরাতে তাকে রাজধানীর মিরপুরের আনসার ক্যাম্পে নামিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। এর পর তিনি তিনি সেন্ট্রাল রোডের বাসায় যাওয়ার জন্য প্রথমে একটি রিকশায় উঠে কাজীপাড়া পর্যন্ত আসেন। পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় যাওয়ার পথে কলাবাগান এলাকায় পুলিশ আটকায় তাকে।

এ সময় ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অশোক কুমার চৌহান পুরো বিষয়টি জেনে আবু বকরকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন।

রাতে ধানমণ্ডি থানায় রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এক সেকেন্ডের জন্য চোখ খুলে দেওয়া হয়নি। কিন্তু কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, তা সম্পূর্ণ রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। তারা ‘মোটিভ ক্লিয়ার’ করেনি। অপহরণকারীরা নিজেরা নিজেরা টাকার কথা বলছিল। তবে কেউ টাকা চায়নি। এমনকি তার কাছে পরিবারের নম্বরও চায়নি।

রিজওয়ানা বলেন, ‘টাকার জন্য এই অপহরণ করা হয়েছে বলে আমি প্রাথমিকভাবে মনে করছি না। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

কারা এটা করেছে? জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, ‘আধা ঘণ্টার মধ্যে এত কিছু জানতে পারা যায় না। তবে অপহরণকারীরা যে অপেশাদার নয়, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।’

পুলিশের পক্ষ থেকেও পেশাদার অপহরণকারীরাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস দিয়ে আবু বকরকে বহনকারী গাড়িটির পেছনে ধাক্কা দেয়। চালক রিপন গাড়ির কোনো ক্ষতি হলো কি না, দেখতে নামলে তার ঘাড়ে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে প্রায় অচেতন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রিপনের ঝাঁজালো এক ধরনের রাসায়নিক ছোড়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অপহরণকারীরা আবু বকরের মুঠোফোন দুটিও নেয়নি। আর পুরো ঘটনাটি তারা ঘটায় এক মিনিটের মধ্যে।’

এদিকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলীকে রাজধানীর বনানী থেকে অপহৃত হন। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন ও পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ইলিয়াসের গাড়িটিকে প্রথমে পেছন থেকে ভারী কোনো জিপ দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়। এরপর চালক গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে নামলে তাদের দুজনকেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আর ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি ভবনের একজন নিরাপত্তাকর্মী গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার শব্দ ও হইচই শুনেছেন মর্মে পুলিশকে জানান।

ইলিয়াস আলী উদ্ধার হননি। তবে আবু বকর ফিরে এসেছেন। কিন্তু তাদের কারও অপহরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। পুলিশও কোনো ধারনা দিতে পারছে না।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বলেন, যারা তাকে অপহরণ করে নিয়েছে তারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করেছিলো। কিন্তু সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপে শেষ পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা কোনো রকম স্বার্থ হাসিল ছাড়াই তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অপহরণকারী যারা ছিলো তারাও সিদ্দিককে চিনতো না।’

‘তা হলে কেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিলো?’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, কেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিলো তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, রিজওয়ানা মামলায় উল্লেখ করেন, ‘পেশাগত কারণে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে আসছি, যা অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব মহল বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচারমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।’

এদিকে সিদ্দিক নিজেও বিষয়টি সম্পর্কে তেমন কিছু জানান নি। তবে অপহরণকারীরা টাকার পয়সা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেও পরিবারের কাছে বা তার কাছে কোনো টাকা পয়সা চাওয়া হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবু বকর সিদ্দিককে আরও কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই অবস্থায় জনস্বার্থ মামলায় চলে যাও ঘটনাটির আসল কারণ কি তা নিয়ে এখনও রহস্যের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।