উদযাপনে অনন্য চীনা বর্ষবরণ

Chinese-new-year

Chinese-new-year

নতুন বছরের আগমনে দেশজুড়ে উৎসবের ধুম পড়েছে। ঐতিহ্য আর আয়োজনের সংমিশ্রণে নানা রঙে-নানা ঢঙে আবালবৃদ্ধবনিতা মেতে উঠেছে বর্ষ বরণে। এই দিনটির আবেদন এত বেশি চিরন্তন এবং এত বেশি ব্যাপৃত যে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে শুধু বরণ আর উদযাপনে মত্ত হয়ে উঠেছে বাঙ্গালি।

নববর্ষকে ঘিরে এই ধরনের আয়োজন এবং উদযাপন শুধু বঙ্গদেশেই নয় বরং পৃথিবীজুড়ে প্রতিটি জাতি নিজস্ব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষকে বরণ করে নেয়। আয়োজনের ভিন্নতার কারণে প্রতিটি উদযাপনই অনন্য। তবে এদের মাঝে বৈচিত্র্য এবং বিস্তৃতির কারণে চীনা নববর্ষের আয়োজন দখল করে নিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত এবং সমাদৃত বর্ষবরণের আসন। বাংলা নতুন বছরের শুভলগ্নে তাই অর্থসূচক উপস্থাপন করেছে নববর্ষকে ঘিরে চীনাদের আয়োজন :

চীনাদের নববর্ষ উদযাপনের সূচনা নিশ্চিত নয়। তবে অধিকাংশদের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৬৬ থেকে ১১২২ পর্যন্ত শাং রাজাদের রাজত্বকালে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে এই উদযাপন শুরু হয়। অনেকের মতে, এর প্রায় পাঁচশ বছর আগে রাজা ইয়াউ এবং রাজা শুনের শাসনামলে চীনের বর্ষবরণ শুরু হয়। তবে, হান শাসনামলে একেবারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে উদযাপনের গোড়াপত্তন ঘটানো হয়। হান রাজা উয়ু ২২০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে, বর্তমানে চন্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী বর্ষবরণ করে চীনারা।

চীনের লোকগাঁথা অনুযায়ী, নববর্ষের আগের রাতে বিভিন্ন পশুর রূপ ধারণ করে বছর মানুষের জান-মালের ক্ষতি করার জন্য সাগর হতে ওঠে আসে। সেই হিসেবে এই বছরটি ঘোড়ার বছর। তাই, চীনাদের বর্ষবরণ মানে এই দৈত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। চীনারা মনে করে, এই দৈত্য লাল রং, উচ্চ শব্দ এবং আগুনকে ভয় পায়। তাই বর্ষ বরণের আবরণে চীনারা আতশবাজি, আমোদ-প্রমোদ এবং বিভিন্ন সাজ-সজ্জার মধ্যে দিয়ে এই দৈত্যকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। বর্তমানে অবশ্য চীনাদের মনে এইসব রূপকথা শুধু ঐতিহ্য হিসেবে সমাদৃত, এখন বর্ষবরণ মানেই শুধু উদযাপন।

chinese-new-year

চীনাদের নববর্ষ চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। তবে, নববর্ষের প্রথম দিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এইদিন রাতে চীনা পরিবারের সবাই একসাথে রাতের খাবার খায়, যা অনেকটা পারিবারিক পুনর্মিলনীর মতো। খাবারের মধ্যে থাকে ডামপ্লিং এবং লাবা কংগি নামের বিশেষ খাবার, আরও থাকে চীনাদের নিজস্ব পিঠা-পুলি সহ নানা আয়োজন। খাবারের পর শু সুই নামের এক উৎসবে মেতে ওঠে চীনারা। এর আগে এবং পরে বিভিন্ন আতশবাজির মাধ্যমে অশুভ প্রেতাত্মাকে তাড়ানোর চেষ্টা চালায়। আর সেলামির ব্যবস্থাতো আছেই।

chinese-new-year

আর একবারে পনের তম দিনে আয়োজন করা হয় ফানুশ উৎসবের। এর মাধ্যমেই চীনাদের বর্ষবরণের সমাপ্তি ঘটে।