কাঁচাবাজার: ২০১৩ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পেঁয়াজ

  • Emad Buppy
  • January 1, 2014
  • Comments Off on কাঁচাবাজার: ২০১৩ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

Onion_2গেলো বছরে কাঁচাবাজারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পেঁয়াজ। ২০১৩ সালের বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবার ওপরে ছিল পেঁয়াজ, এর পরের স্থানে ছিল কাঁচামরিচ। এককথায়  চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্য আকাশচুম্বী হওয়ায় আলোচনার শীর্ষে ছিল পণ্যবাজার। আর এ কারণেই ২০১৩ সালটি ছিল গরিবের জন্য দীর্ঘশ্বাসের বছর।

দফায় দফায়  নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি মানুষের আয়। এ জন্য আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে সাধারণ মানুষের। জীবন চলার পথে বারবার থমকে দাঁড়াতে হয়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষদের।

দমবন্ধ করা পেঁয়াজের দরে মানুষ যখন নাজেহাল তখন নানা চেষ্টা করেও সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করর্পোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) এর লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হয়। খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি, বাহির থেকে পেঁয়াজের আমদানির মতো শত চেষ্টায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তা পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি।

প্রথম দিকে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব পড়ে। আর এ কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজ ওঠে ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায়। যে পেঁয়াজ মে-জুন মাসে ২২ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হতো তা আস্তে আস্তে চতুর্থ বারে এসে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। টানা হরতাল-অবরোধসহ নানা অজুহাতে বাড়তে থাকে এ পণ্যটির দাম। সাধারণ ক্রেতারা অবশ্য ব্যবসায়ীদের কারসাজিসহ নানা ছলচাতুরির অভিযোগ আনেন।

এদিকে, রমজান মাসে হঠাৎ করে বেড়ে যায় কাঁচারিচের দাম। ২০ টাকার কাঁচামরিচ ওঠে আসে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। বিদেশ থেকে আমদানির না হওয়ার অজুহাতে বাড়তে থাকে এ পণ্যটির দাম।

চালের দাম গেল বছরে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যায়। সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা নিচে পাওয়া যেত বাজারে। এ ছাড়া আদা, রোশন, চিনিসহ সব নিত্যপণ্যের গায়ে দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতির হাওয়া লাগে।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সরকার দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাজারের ঊর্ধ্বগতি দেশের মানুষকে করেছে ক্ষত-বিক্ষত। সব মিলিয়ে ২০১৩ সাল ছিল দ্রব্য মুল্যের উর্ধ্বগতির বছর।

দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবার মুখে ছিল ‘রাজনীতি বুঝি না, ছেলে মেয়ে নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচতে চাই’। ‘কাজ করবো ভাত খাব’ এমন সব কথা। রাজনীতি বিদদের কাছে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি ছিল ‘বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, ডাল ভাতের নিশ্চয়তা চাই”।

এআর