আবারো মাওয়ার পথে ‘জরিপ-১০’

pinack-6
pinack-6
ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে পিনাক-৬

আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটি উদ্ধারে আবারো মাওয়ার পথে রওনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভে ভেসেল ‘জরিপ-১০’।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ মাওয়া পৌঁছতে পারে। আজ মধ্যরাতে থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করবে জাহাজটি।

এর আগে, গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে মাওয়ায় পৌঁছেছে টাগবোট কাণ্ডারি-২।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা নদীতে গত সোমবারের লঞ্চডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় পাওয়া ১৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চতুর্থ দিনেও চলছে তল্লাশি। তবে এখনও পাওয়া যায়নি হারানো লঞ্চ পিনাক-৬ এর খোঁজ। লঞ্চের অবস্থান শনাক্ত করতে শক্তিশালী যন্ত্রপাতি নিয়ে গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে মাওয়ায় পৌঁছেছে টাগবোট কাণ্ডারি-২।

ভোর ৫টা থেকে লঞ্চটির খোঁজে চাঁদপুরের হাইমচরে তল্লাশি শুরু করেছে কাণ্ডারি-২।

আজ সকাল থেকে ৬টি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন লৌহজং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা। এ ঘটনায় নিখোঁজের তালিকায় এখনও ১৩১ জনের নাম রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পিনাক-৬ এর খোঁজে নৌ-বাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি দল তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

কাণ্ডারি-২ এর ক্যাপ্টেন মঞ্জুর জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি সনাক্ত করতে সমুদ্র জরিপে ব্যবহৃত ‘সাইড স্ক্যান সোনার’‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ ও ‘সাব বটম প্রোপেলার’ আনা হয়েছে।

মাওয়ার বালুরচরে পুলিশের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, উদ্ধার করা লাশ মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত পাওয়া ২৯টি মরদেহের মধ্যে ১৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী তথ্য কেন্দ্রের মুখপাত্র শ্রীনগর সার্কেল এএসপি কুতুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাওড়াকান্দি চর, ভোলা ও চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নদীতে মরদেহগুলো ভেসে উঠে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার পথে তীব্র স্রোতের মধ্যে ডুবে যায় লঞ্চ এমএল পিনাক-৬। এতে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে সোমবার ১১৫জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।