জার্মানিতে রোজা দুই ধরনের ক্যালেন্ডারে!

  • Emad Buppy
  • July 15, 2014
  • Comments Off on জার্মানিতে রোজা দুই ধরনের ক্যালেন্ডারে!
Germani

সারাবিশ্বের ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা পালন করছেন রোজা। রমজান মাসে ফরজ রোজা পালন করা হলেও স্থানভেদে রোজা পালনে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ করা যায়।

Germani
জার্মানিতে ইফতারির প্রস্তুতিকালে কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

জার্মানিতে রোজা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। একটি সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে।

অন্যটি তার্কিশ ক্যালেন্ডার অনুসারে। তার্কিশরা চাঁদ অনুযায়ী ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন না। নিজস্ব ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী রোজা, ঈদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালক করেন তারা। সেই হিসেবে জার্মানরা রোজা শুরু বা ঈদ পালনের জন্য চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেন না।

জার্মানির আকাশে খুব সহজে চাঁদ দেখা যায় না। তাই এখানে রোজা শুরু বা ঈদ আয়োজন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য চাঁদের ওপর নির্ভর করা হয় না। এ নিয়ে রোজা শুরু এবং ঈদ আয়োজনে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন জার্মানে বসবাসকারী বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের মুসলমান নাগরিকরা।

তার্কিশ ক্যালেন্ডারে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি উল্লেখ করে দেওয়া হয়। তাই জার্মানের অধিকাংশ মুসলমান তার্কিশ ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেন। তবে এখানে বসবাসকারী বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের অধিকাংশ মুসলমান নাগরিক তাদের রোজা পালন, ঈদ আয়োজন এবং অন্যান্য ধর্মীয় কাজের জন্য সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব মেনে চলেন। এক্ষেত্রে তারা ‘ইসলামিক ফাউন্ডার’ নামের একটি ওয়েবসাইট দেখে রোজা শুরু এবং ঈদ পালন করেন। সেহরি ও ইফতারের সময়সূচিও এই ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে।

এছাড়া রোজাদার ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য স্থানীয় মসজিদ থেকে রমজান মাসের ক্যালেন্ডার সরবরাহ করা হয়। এই ক্যালেন্ডারগুলোতে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রমজান ও ঈদের সূচি দেওয়া হয়। এটি দেখেও অনেকেই সেহরি ও ইফতার করেন।

জার্মানে বসবাসকারীরা দৈনিক প্রায় ১৯ ঘণ্টা রোজা পালন করেন। বাঙালিরা এখানে এসে রোজা রাখতে প্রথমেই সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে প্রায় ৪ ঘণ্টা বেশি রোজা পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন এখানে বসবাসকারী বাঙালিরা।

শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী বাঙালিরা এখানে নিজেদের সুবিধামতো ইফতার ও সেহরির আয়োজন করেন। দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাসকারী বাঙালিরা অনেকেই এক সাথে ইফতারের আয়োজন করেন। মাঝে মাঝে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তুলনামূলক দূরবর্তী স্থানে থাকা বাঙালিরা এতে হাজির হন। এখানে থাকে বাঙালি স্বাদের ইফতার আয়োজন। এতে থাকে কিছু ফল, পাকুরা, চপ, বেগুনি ইত্যাদি। মাঝে মাঝে ছোলার ব্যবস্থাও করা হয়।

জার্মানির একপ্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিরা অপর প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের সাথে ইফতার করতে প্রায়ই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। ইফতার মাহফিলগুলো পরিণত হয় যেন বাঙালিদের মিলনমেলায়।

এছাড়া জার্মানের মসজিদগুলোতে প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করা হয়। এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। জার্মানে বসবাসকারী প্রায় সব শিক্ষার্থী মসজিদে ইফতারি করেন। এতে তাদের চাপ কিছুটা কম থাকে। ইফতার আয়োজনের জন্য তাদের ব্যস্ত সময় পার করতে হয় না।

মসজিদের ইফতারি আয়োজনে থাকে ফল, রুটি এবং গরু অথবা মুরগির মাংস। ফল খেয়ে রোজা ভাঙ্গার পর নামাজ আদায় এবং এরপর মাংস দিয়ে রুটি দিয়ে ইফতার করা হয় এখানে।

এখানে ১৯ ঘণ্টা রোজা পালন করায় ইফতার ও সেহরির মধ্যে সময়ের পার্থক্য খুব কম। প্রতিদিন ইফতারি শেষ করেই সেহরির আয়োজনে ব্যস্ত থাকতে হয় সকলকে।