টাকা ছাপানোর মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ

new taka
নুতন টাকা
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের টাকা ছাপানোর মেশিন কেনার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ করেছে কোমরি করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা বলছে, বাংলাদেশের টাকা ছাপানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট একটি কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে ।

প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চ মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে টেন্ডারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে টেন্ডারে কিছু শর্ত উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় পুনরায় টেন্ডার দেওয়ার দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়ে এ অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চায়। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে তার ব্যাখ্যাও মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল চিঠিতে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানিকে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া বা টেন্ডারে অস্বচ্ছতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারা বিশ্বে টাকা ছাপানোর মেশিন সরবরাহের ক্ষেত্রে চারটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে। এর মধ্যে কে.বি.এ লোটাস গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নানা দেশে মেশিন সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডের তৈরি মেশিন সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে কোমরি করপোরেশনের মেশিন সরবরাহের অভিজ্ঞতা মাত্র ৩ বছরের। এ প্রতিষ্ঠানটি জাপানি মেশিন সরবরাহ করে থাকে। সার্বিক বিচারে সুইজারল্যান্ডের মেশিনটিই ভাল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কোমরি করপোরেশনের অভিযোগের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক দাসগুপ্ত অসীম কুমার অর্থসূচককে বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। এখানে যে মেশিন দিয়ে টাকা ছাপানো হচ্ছে তা প্রায় ২৫ বছরের পুরানো। ফলে টাকাতে ছাপার মান খুব বেশি ভাল হয় না।

বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ লাখ বিভিন্ন ধরনের টাকা ছাপানোর চাহিদা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কারণে আরও অধিক সংখ্যক টাকা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তার কথা আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে জানাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ৪টি টাকা ছাপানোর মেশিন ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। টেন্ডারে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ৪ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। কিন্তু কোমরি করপোরেশনের ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞাতা থাকায় তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

দাসগুপ্ত অসীম কুমার বলেন, আমরা কাউকে বাদ দিতে বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে টেন্ডার আহ্বান করিনি। কাজের ক্ষেত্রে সব সময় অভিজ্ঞতা প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি। এর ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ না পেলে সে দায়ভার আমাদের নয়। আর এ কথাটিই অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসএই/