যদি স্বপ্ন থাকে বৈমানিক হতে ….

  • Emad Buppy
  • May 17, 2014
  • Comments Off on যদি স্বপ্ন থাকে বৈমানিক হতে ….
pilot, পাইলট
pilot, পাইলট
পাইলট

আকাশে উড়ে মেঘের রাজ্যে ভেসে বেড়ানোর স্বপ্ন অনেকের মনেই উঁকিঝুকি দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়জনের স্বপ্নইবা পূরণ হয়। বৈমানিক হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। বিশ্ব চাকরির বাজারে যে কয়টি পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে বৈমানিক অন্যতম। চাহিদার তুলনায় এই পেশাতে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কম। ফলে বৈমানিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে যোগ্য করে তোলার পর কাউকে একদিনও বেকার বসে থাকতে হয় না।

যদি আপনার স্বপ্ন থাকে বৈমানিক হওয়ার, তবে প্রশিক্ষণ নিবেন যেখানে:

বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমিসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

  • বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেড:

বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমি বৈমানিক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণের সময়সীমা ৩ বছর। বছরে দু’বার; জানুয়ারি ও জুলাই বা আগস্টে ভর্তি নেওয়া হয়। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিতে গ্রাউন্ড বিষয়ে তাত্ত্বিক কোর্সের খরচ পড়বে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রতি ঘণ্টা ফ্লাইংয়ের জন্য দিতে হবে ১২ হাজার টাকা। মোট কোর্স ফি ২০ লাখ টাকা।

ঠিকানা : বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ভিভিআইপি টার্মিনালের ডানপাশে), উত্তরা, ঢাকা।

ফোন: ৮৯১৩৭০৯, ৮৯১৩৯০৯, ৮৯১৯০৩৯।

  • গ্যালাক্সি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি

এখানে বছরে তিনটি সেশনে ভর্তি হওয়া যায়। কোর্সের মেয়াদ ১৮ মাস। কোর্স ফি ২৮ লাখ টাকা।

ঠিকানা : বাড়ি-২০, লেক ড্রাইভ রোড, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা।

ফোনঃ ৮৯২১২১৮, ০১৯৩৮৮৩৮৮০৪, ০১৬১১০১২৩১২, ০১৮১১৪৪৫২২৫, ০১৮১১৪৪৫২১৬।

ওয়েব : http://www.galaxyflyingacademy.com/

মেইল: [email protected]

  • আরিরাং এভিয়েশন

বছরে তিনটি সেশনে ভর্তি হওয়া যায়। কোর্সের মেয়াদ ১৮ মাস। কোর্স ফি ৩০ লাখ টাকা।

ঠিকানা : বাড়ি ৪২, লেক ড্রাইভ রোড, সেক্টর ৭, উত্তরা, ঢাকা।

  • এভিয়েশন অ্যাকাডেমি লিমিটেড

ঠিকানা : বসতি এভিনিউ, ফ্ল্যাট-এ২, হাউস-১০, রোড-৫৩, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২।

ফোন : ৮৮৩৫৮৯৭, মোবাইল : ০১৮১৯৪৮৫৩০৮।

  • এয়ার পারাবত

ঠিকানা:পুরোনো বিমানবন্দর, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা

ফোন: ৯৫৬৭০৫৬।

  • টিএসি এভিয়েশন

এই ইনস্টিটিউটে এয়ারলাইন্স পাইলট, অ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লাইট ক্যাটারিং, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এক্সিকিউটিভ ও কেবিন ক্রুর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট যেমন সেসনা-১৫২,সেসনা-১৭২ ও জেটস্ট্রিম-৩২ মডেলের এয়ারক্রাফটের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বিস্তারিত জানতে টিএসি ঢাকা অফিস ০০৮৮০২ ৮৯৩২৩৩৮ ও লন্ডনে টিএসি প্রতিনিধি ০৭৪২৪ ৭৯২৬১৬ নং এ যোগাযোগ করা যাবে।

ওয়েব সাইট: www.tac-aviation.com

এছাড়া বাংলাদেশ বিমান চালনা প্রশিক্ষণের জন্য সিএএবিএ’র অধীনে ক্যাটেক পরিচালনা করছে বিমান পাইলটিং কোর্স (পিপিএল, সিপিএল, ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং, নাইট এ্যান্ড ক্রসকান্ট্রি ফ্লাইট)।

যে যোগ্যতা লাগবে:

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস হতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত বিষয় থাকতে হবে। পদার্থ ও গণিতে কমপক্ষে ‘বি’ গ্রেড থাকতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজি বলা ও লেখায় দক্ষ হতে হবে। যাঁরা স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছেন বা পাস করেছেন, তাঁরাও বৈমানিক কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।তবে সে ক্ষেত্রে বয়স ২৭ এর মধ্যে থাকতে হবে।

উত্তীর্ণ হতে হবে ভর্তি পরীক্ষায় :

বৈমানিক কোর্সে ভর্তি হতে সবার আগে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ পরীক্ষা হয় দুটি ধাপে মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণত বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন করা হয়। এটি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমি নিয়ে থাকে। আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় সিভিল এভিয়েশন অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে।

গ্রাউন্ড কোর্সও লাগবে :

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা বৈমানিক কোর্স করার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। বৈমানিক হতে পেরোতে হয় তিনটি ধাপ। গ্রাউন্ড কোর্সের পর পেতে হয় এসপি বা স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স।

এরপর পিপিএল (প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স), আর সবশেষে পেতে হয় সিপিএল বা কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বৈমানিক হওয়ার জন্য নির্ধারিত কিছু বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়। পড়ানো হয় এয়ার-ল, এয়ারক্রাফট জেনারেল নলেজ, ফ্লাইট পারফর্ম অ্যান্ড প্লানিং, হিউম্যান পারফরম্যান্স অ্যান্ড লিমিটেশন। এছাড়া নেভিগেশন, অপারেশনাল প্রসিডিউর ও রেডিও টেলিফোন সম্পর্কে পড়ানো হয়।

এবার উড়ে চলুন আকাশে:

গ্রাউন্ড কোর্সের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমি লিখিত পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সরাসরি বিমান চালনার জন্য সিভিল এভিয়েশনে এসপিএল বা স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএবি) পরীক্ষা নেয়। সিএএবির পরীক্ষা এবং সিএমবির (সার্টিফায়েড বাই দ্য মেডিক্যাল বোর্ড) স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল এসপিএল দেওয়া হয়। এ লাইসেন্স দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ঘণ্টা বিমান চালনার সার্টিফিকেট অর্জন করে পিপিএল বা প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। এ সময় তিন মাসের থিওরি ক্লাসের সঙ্গে একটি ক্রস কান্ট্রি ফ্লাইট (এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া-আসা) চালানোর অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়। এরপর আবারও লিখিত এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মেলে প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স। এ লাইসেন্স দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক বিমান চালানো যায় না। তাই বৈমানিক হিসেবে চাকরির জন্য প্রয়োজন সিপিএল বা কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স। এ লাইসেন্স পেতে ১৫০ থেকে ২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এ ছাড়া উত্তীর্ণ হতে হয় লিখিত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায়। পাশাপাশি থাকতে হয় একটি ক্রস কান্ট্রি ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা ও তিন মাসের থিওরি কোর্সের সার্টিফিকেট। সিপিএল পাওয়া মানেই নিশ্চিত চাকরি।

কাজের ক্ষেত্র ও আয়:

বিমান সংস্থাগুলোর নতুন নতুন রুট চালু এবং পুরনো বৈমানিকদের অবসরে যাওয়ার ফলে প্রতিবছর ১৭ হাজার নতুন বৈমানিক প্রয়োজন হচ্ছে।বর্তমানে দেশে ও বিদেশে দক্ষ বৈমানিকের বেশ চাহিদা রয়েছে। এটি এমন এক পেশা,যেখানে চাকরিই প্রার্থী খোঁজে।

বৈমানিকদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টা হিসেবে। একজন সিপিএল লাইসেন্সধারী বৈমানিকের মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকা। বিদেশি এয়ারলাইনসে এর পরিমাণ আরও বেশি।

উত্তম মণ্ডল/এআর