মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মাঠ গোছাবে বিএনপি

  • Emad Buppy
  • May 17, 2014
  • Comments Off on মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মাঠ গোছাবে বিএনপি
bnp
bnp
বিএনপি লোগো

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সহায়তা করবে। তাই এ লক্ষ্যে মাঠ গোছাতে চায় বিএনপি।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, দলের চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার নেতৃত্বে শিগগিরই সরকার পতন আন্দোলনে যাবে দলটি। এজন্য তৃণমূল আগেই গোছানো ছিল এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মাঠ গোছাবে বিএনপি।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই ভারতের মতো ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ চায় বিএনপি। যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো তাহলে বিজেপির মতো বিএনপিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতো।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান তাবেদার আওয়ামী সরকার ভারতের কংগ্রেস সরকারের সমর্থনের কারণেই আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করেছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তা আকড়ে ধরে রাখতে সারাদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে তারা।

বিএনপি শীর্ষ নেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধী ও শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রণব মুখার্জির সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কারণে তারা বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে আসছে।

আওয়ামী লীগের সাথে বিজেপির সম্পর্ক কংগ্রেসের মতো ঘনিষ্ট হবে না। ফলে আগের মতো ভারতের একতরফা সমর্থনও পাবে না আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এজন্য একটা মানসিক চাপে পড়তে যাচ্ছে আওয়ামী লীগে। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপে ফেলবে বিএনপি।

এদিকে, বিজেপি সরকার গঠন করলেই বিএনপির উজ্জীবিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অর্থসূচককে জানান, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপি গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পতন আন্দোলনে গিয়েছিল। কিন্তু এই বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকাতে নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।

বিএনপির আন্দোলন পণ্ড করতে সরকার দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে    রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য চাপ দেওয়ার। প্রয়োজনে সরকার পতন আন্দোলনে রাজপথে নামবে বিএনপি।

নির্বাচনী প্রচারণায় ভোট কুড়াবার জন্য সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলেছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতবাসী আশা করছে ভোটে জয়লাভের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর পাশে দাঁড়াবেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও তিনি সাহায্য করবেন এমনটাই আশা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

ভারতে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী দুই দেশের মধ্যে বিবদমান সমস্যাগুলো ভারত সঠিকভাবে অনুধাবন করবে।

এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আশা করি নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের মানুষের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করবে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

কেএফ