মুন্সীগঞ্জে লঞ্চডুবি, ২৯ জনের লাশ উদ্ধার

  • Emad Buppy
  • May 16, 2014
  • Comments Off on মুন্সীগঞ্জে লঞ্চডুবি, ২৯ জনের লাশ উদ্ধার
lance
lance
মুন্সীগঞ্জে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় উদ্ধারকারীদের উদ্ধার কাজ চলছে

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৯টি স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। লঞ্চ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও দুর্বার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ পর্যন্ত ৫০ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌকর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার জানান, ৫০ জনের মতো যাত্রী নানাভাবে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

লঞ্চডুবির খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। রাতেই লঞ্চটির ডুবে যাওয়ার স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। লঞ্চটি প্রায় ৮০ ফুট পানির নিচে কাত হয়ে পড়ে আছে।

লঞ্চের যাত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, সদরঘাট থেকে বেলা ১টার দিকে শরীয়তপুরের উদ্দেশে রওনা হয় লঞ্চটি। পথে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটিতে ২০০ থেকে ২৫০ যাত্রী ছিল বলে জানান তিনি।

লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে লঞ্চে থাকা যাত্রীদের স্বজনেরা শরীয়তপুরের সুরেশ্বর ও সাধুরবাজার মজিদ শাহের লঞ্চঘাটে শত শত স্বজন ভিড় জমান। এ সময় আত্মীয়স্বজনের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তারা পদ্মা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।কখন বাড়িতে আসবেন তাদের স্বজনেরা।

ডুবে যাওয়া ওই লঞ্চে থাকা নড়িয়া মৃধাকান্দি এলাক সনিয়া, সজীব, সাকিল, আলো বেগম, সায়মন বেগম, পাঁচগাঁও গ্রামের লিটন, টুম্পা, মাহিম, সুমনা, নিকারীপাড়া এলাকার সেলিম, কোলোকাঠি গ্রামের মান্নান দেওয়ান, তার ছেলে হৃদয় দেওয়ান, মিল্টন খাঁ, কোটাপাড়া এলাকার মিন্টু খাঁ, বাংলাবাজার ব্যবসায়ী সাকিল হাওলাদার, রাজ্জাক হাওলাদার, হাকিম বেপারীর মেয়ে রিয়া আক্তার, নড়িয়া এলাকার পারভেজ, দক্ষিণ হালইসার গ্রামের সুমন সরদার, একই গ্রামের মমিন সরদার, কেদারপুর এলাকার হৃদয় শেখ, রিপন শেখ, সিংহলমুড়ি গ্রামের হেলাল, চণ্ডিপুর এলাকার আব্দুল জলিল খাঁ, খোরশেদ আলম, কলকাঠির আনোয়ার ঢালী, রাহাপাড়া গ্রামের সেতারা বেগম, ডিঙ্গামানিক এলাকার আলো বেগম, মাহিন খান, শামিম, মানিক সোনিয়া, রনি মাঝি, কেদারপুর এলাকার ছায়েদ ঢালী, একই এলাকার কাদির খলিফা, সুমন শেখ, কাঞ্চন হাওলাদারসহ প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে পদ্মা পাড়ে থাকা স্বজনেরা জানান।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ.টি.এম. মাহাবুব-উল-রশিদ জানান, খুব শিগগিরই লঞ্চটি তীরে ওঠানো হবে। এই যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার ও সরকার থেকে আরও ৫০ হাজারসহ মোট ৭০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর এলাকার মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে ডুবে যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪। লঞ্চটি দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর যাচ্ছিল।

কেএফ