কানাডার অভিবাসন ভিসা: ভাষার ওপর যতটুকু দখল দরকার

  • syed baker
  • May 15, 2014
  • Comments Off on কানাডার অভিবাসন ভিসা: ভাষার ওপর যতটুকু দখল দরকার
ভ্যানকুভারের মোহনীয় দৃশ্য (ছবি-ইন্টারনেট)
ভ্যানকুভারের মোহনীয় দৃশ্য (ছবি-ইন্টারনেট)

ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় কানাডায় অভিবাসন সম্পর্কিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে অর্থসূচক। বিদেশ গমনেচ্ছুদেরকে সহযোগিতা প্রদান ও ভুঁইফোড় কনসালটেন্সি ফার্মের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই প্রয়াস। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা উপস্থাপন করছি কানাডায় অভিবাসন সম্পর্কিত ২য় পর্বের প্রতিবেদন :

আগেই বলা হয়েছে, ফেডারেল স্কিলড প্রোগ্রামের আওতায় কানাডায় ভিসার জন্য আবেদনের আগে আপনার যোগ্যতা যাচাই করে নিন। সিলেকশন ফ্যাক্টর যাচাই করার পর ন্যূনতম পয়েন্ট অর্জন, না করলে ভিসার জন্য আবেদনের কোন প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, কানাডার সরকার অভিবাসনের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক। ভিসার জন্য আবেদন করার পর কানাডার সরকার নিজস্ব পদ্ধতিতে আপনার যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবে। কোন ধরনের ভুল তথ্য প্রদান করলে নিশ্চিত থাকুন আপনি এবার তো ভিসা পাবেনই না, আগামিতেও ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট করছেন। তাই কোনো ধরনের চালাকির আশ্রয় না নিয়ে আবেদন করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না এবং বাংলাদেশ থেকে অন্য যারা বৈধভাবে আবেদন করছে তাদের জন্য সুবিধা হবে।

গত পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেকেই আবেদন করেছেন ভাষার দক্ষতা পয়েন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট করে তোলার জন্য। তাদের জন্য বলছি, কানাডা নিজস্ব পদ্ধতিতে ভাষার দক্ষতা যাচাই করে থাকে। এই ক্ষেত্রে কানাডা সরকার অনুসৃত দক্ষতা পরিমাপক স্কেলটিকে বলা হয় কানাডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ বেঞ্চমার্ক বা সংক্ষেপে সিএলবি। যেহেতু, শুধু ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চই কানাডার দাপ্তরিক ভাষা, তাই এই দুই ভাষার ক্ষেত্রে সিএলবি পরিমাপ করা হয়। সিলেকশন ফ্যাক্টরের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট পেতে হবে এবং সর্বোচ্চ ২৮ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু ইংরেজী বা ফ্রেঞ্চ যে কোনো একটি বাদ গেলে সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

এখনই ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজির উপর নির্ধারিত দক্ষতা থাকতে হবে এমন নয়। ভাষার উপর দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে ভাইবার সময়। তাই অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ হলে আপনি আবেদন পাঠিয়ে দিতে পারেন। আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ হতে হতে যে সময় নেবে তার মধ্যে আপনি শিখে নিতে পারেন ভাষা দুটি। ভাইবার সময় পরীক্ষার দক্ষতার প্রমাণ তথা সনদ জমা দিলেই চলবে।

ইংরেজির ক্ষেত্রে আইইএলটিএস অথবা কানাডা ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোফিসিয়েন্সি ইন্ডেক্স প্রোগ্রাম এর সনদ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে থাকে কানাডার সরকার। তবে বাংলাদেশে যারা অবস্থান করছেন তাদের জন্য শুধু আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। যারা কানাডার টরেন্টো, ভ্যানকুভার ও এডমোনটনে অবস্থান করছেন তারা অন্যটিতেও অংশ নিতে পারবেন।

নিচে শুধু আইইএলটিএস স্কোর সিএলবি অনুসারে পরিবর্তন বা যাচাইয়ের পদ্ধতি বর্ণণা করা হল :

ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হলে সিএলবি ৯ স্কেলের দক্ষতার জন্য শ্রবণ, লিখন, পঠন ও কথনের ক্ষেত্রে প্রতি বিভাগের জন্য ৬ পয়েন্ট করে দেওয়া হবে। আইইএলটিএসে শ্রবণে ৭ দশমিক ৫ এর বেশি, পঠনে ৬ দশমিক ৫ এর বেশি, লিখনে ৬ দশমিক ৫ এর বেশি ও কথনে ৬ দশমিক ৫ এর বেশি স্কোর থাকলে সিএলবি লেভেল ৯ বলে বিবেচিত হবে।

আর শ্রবণে ৭ দশমিক ৫ এবং পঠন, লিখন ও কথনের প্রতিটিতে ৬ দশমিক ৫ স্কোর সিএলবি লেভেল ৮ বলে গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগে সিএলবি লেভেল ৮ এর জন্য সিলেকশন ফ্যাক্টরে ভাষার দক্ষতায় ৫ পয়েন্ট করে পাওয়া যাবে।

আর যদি আইইএলটিএস এ শ্রবণ, পঠন, লিখন ও কথনে ৬ স্কোর অর্জিত হয় তবে সিএলবি লেভেল ৭ গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে প্রতি বিভাগের জন্য ৪ পয়েন্ট করে পাওয়া যাবে। তবে ৬ এর নিচে কোনো স্কোর সিএলবি লেভেল হিসেবে গণ্য হবে না।

ফেঞ্চ ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে টেস্ট ডি ইভ্যালুয়েশন ডি ফ্রেঞ্চ (টিইএফ) সনদ গ্রহণ করে কানাডা।

টিইএফ এ কথন ও লিখনে ৩৭২ এর বেশি, শ্রবণে ২৯৮ এর বেশি এবং পঠনে ২৪৮ এর বেশি স্কোর থাকলে সিএলবি লেভেল ৯ অর্থাৎ প্রতিটি বিভাগের জন্য ৬ পয়েন্ট করে পাওয়া যাবে। এই পরীক্ষায় কথন ও লিখনে ৩৪৯ থেকে ৩৭১, শ্রবণে ২৮০ থেকে ২৯৭ এবং পঠনে ২৩৩ থেকে ২৪৭ পর্যন্ত স্কোর থাকলে সিএলবি লেভেল ৮ মানে প্রতি বিভাগে ৫ পয়েন্ট করে পাওয়া যাবে। আর কথন ও লিখনে ৩০৯ থেকে ৩৪৮, শ্রবণে ২৪৮ থেকে ২৭৯ এবং পঠনে ২০৬ থেকে ২৩২ স্কোর থাকলে প্রতি বিভাগে ৪ পয়েন্ট অর্থাৎ সিএলবি লেভেল ৭ বলে গণ্য করা হবে।

মনে রাখবেন, শুধু অনুমোদিত ভাষার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার সনদই গ্রহণ করে থাকে কানাডা। তাই যারা এখনও আইইএলটিএস বা টিইএফ সনদ অর্জন করেননি, তারা দ্রুত এই পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়ে সনদ সংগ্রহ করুন। ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ দুটোতে দক্ষতা দেখাতে পারলে আরও ভালো।

ঢাকায় অবস্থিত কানাডিয়ান দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কানাডিয়ান সরকারের অনুমোদিত কোনো লিগ্যাল কনসালটেন্ট বা ফার্ম নেই। কানাডার ভিসা আবেদন সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম ভিএফএস গ্লোবাল নামক সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। তাই এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি না করে ভিএফএস’র অফিসে যোগাযোগ করুন কিংবা অনলাইনে ভিসার আবেদন পাঠাতে পারেন।

আশা করি আমাদের এই প্রয়াস আপনাদের কাজে লাগবে। পরবর্তী পর্বের জন্য চোখ রাখুন অর্থসূচকে।

প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নিম্নোক্ত লিংকগুলোতে ক্লিক করুন :

কানাডার অভিবাসন ভিসা : জেনে নিন আপনার পয়েন্ট (১ম পর্ব)

৫০ ক্যাটাগরিতে ভিসা দিচ্ছে কানাডা, আবেদন শুরু ৪ মে

ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ