সকল মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হবে ডেলটা প্ল্যান

  • তপু রায়হান
  • May 14, 2014
  • Comments Off on সকল মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হবে ডেলটা প্ল্যান
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

ব-দ্বীপ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করতে নেদারল্যান্ডসের সাথে কিছুদিন আগে ডেলটা প্ল্যান সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। একে দীর্ঘ মেয়াদি ও সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে ছোট ছোট অংশে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল।

বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০ ফরমুলেশন এবং ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস ফর প্রোভার্টি অ্যালিভিয়েশন’

শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার শুরুতে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ব-দ্বীপ অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবনমান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করতে পারবে তারা।

এসময় ব-দ্বীপ অঞ্চলে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে উপস্থিত নেদারল্যান্ডস প্রতিনিধিদেরকে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব-দ্বীপের ঘনবসাতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত হুমকিকে মোকাবেলা করার জন্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম।

কর্মশালায়মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মনসুর রহমান এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্ম প্রধান মফিদুল ইসলাম।

ড. মুনছুর রহমান বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে বর্তমানে ৪০ শতাংশ পানি নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদী থেকে পলি নিঃসরণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সমগ্র পলি নিঃসরণের ২৬ শতাংশ ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে লবণাক্ততা ও জমি ক্ষয় বাড়ছে। ওইসব এলাকায় কৃষি কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যে আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে ডেলটা প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ব-দ্বীপ অঞ্চলকে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবিকা, জীবনযাত্রা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

সভায় জানানো হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব-দ্বীপ অঞ্চলে ইকোসিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ সামগ্রিক জীব-বৈচিত্রকে টিকিয়ে রাখা এখন একটি চ্যালেঞ্জ। তাই ডেলটা প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে একটি সামগ্রিক প্রচেষ্টা হিসেবে নিতে হবে।

এ পরিকল্পনায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলীদের যেমন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ঠিক তেমনি সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদদেরকেও এ পরিকল্পনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে ডেলটা প্ল্যান প্রণয়ন করে বহুমুখী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, সমগ্র পৃথিবীতে ব-দ্বীপ অঞ্চলে ৫০ কোটিরও বেশি লোক বসবাস করছে। এদের জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলিষ্টিক অ্যাপ্রোচ হিসেবে ডেলটা প্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে।
সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের পানি সম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ শীর্ষক এ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ড। এ জন্য ইতোমধ্যেই দু দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় নেদারল্যান্ড এ পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে।

এইচকেবি/