বাজারে এখনও শীতের সবজি

rayer bazar
কাঁচাবাজার
কাঁচাবাজার (ফাইল ছবি)

বৈশাখে মাস প্রায় শেষ হয়ে এলেও রাজধানীর বাজারে এখনও পাওয়া যাচ্ছে শীতকালীন সবজি। বাজারে শীতকালীন সবজি পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম চলে গেলেও শীতের সবজির চাহিদা কমেনি। চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর কচুক্ষেতের খুচরা বাজারে দেখা যায়, শীতের সবজি টমেটো, ফুল কপি, বাঁধা কপি, মুলা, গাজর, ঢেঁড়স ও ধনেপাতা কিছুদিন আগের তুলনায় বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবজি কিনতে আসা সেনাসদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, শীতের সবজি সব সময়ই ভালো লাগে। তাই দাম বেশি হলেও তেমন কোনো সমস্যা হয়না।

তবে বাজারে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচ, গোল বেগুন, কাকরল ও পটলসহ অন্যান্য সবজির দাম।

এদিকে বাজারে বেড়েছে শুকনা মরিচ, আদা ও খাসির মাংসের দাম। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, পেঁয়াজ, তেল ও ডালের দর।

আজকের বাজার চিত্র:

সবজি:

কচুক্ষেত কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩৫ টাকা, গোল বেগুন ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা  ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, আলু ১৮ টাকা, গাজর ৪৫ টাকা, করলা ৩৫ টাকা, উস্তা ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, পেঁপে ৪৫ টাকা ও শসা ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি কচুর লতি ৪৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (বড়) ৮০ থেকে ৯০ টাকা, জালি কুমড়া প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, লাউ ৪৫ টাকা, লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাকরল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা আম ৪৫ টাকা ও সাজনা পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, ফুল কপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাঁধা কপি ৪০ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, লাল শাক প্রতি আটি ১০ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা, ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ২০ টাকা, পুদিনা পাতা আটি ১৫ টাকা, লেটুস পাতা প্রতি পিস ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

মুদি:

মুদি দোকানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩২ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৮ টাকা, চায়না রসুন ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, একদানা রসুন ১৪০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ থেকে ২৪৫ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান আদা ২২০ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ১০৫ টাকা, ইন্ডিয়ান মসুর ডাল ৮০ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, আস্ত ছোলার ডাল ৬০ টাকা, ভাঙ্গা ছোলার ডাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, খোলা চিনি ৪২ টাকা ও পেকেটজাত চিনি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চাল:

প্রতি কেজি পুরাতন নাজির শাইল চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, নতুন নাজির শাইল চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, পুরাতন মিনিকেট চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, নতুন মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, পুরাতন লতা আটাশ ৪৪ টাকা, নতুন লতা আটাশ ৪২ টাকা, মোটা চাল ৩৫ টাকা, পাইজাম ৪২ টাকা ও পারিজা ৩৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

এছাড়া কেজি প্রতি জিরা নাজির ৫২ টাকা, চিনি গুড়া ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, বি আর আটাশ ৪২ টাকা, বি আর উনত্রিশ ৪০ টাকা, হাসকি ৪০ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ টাকা ও লাল বিরই ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

ডিম:

বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিম ২৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৩৮ টাকা, হাসের ডিম ৩৫ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছ :

কচুক্ষেত বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ দোকানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, প্রতি কেজি দেশি কাতল মাছ ৩৫০ টাকায়, রুই মাছ (বড়) ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, চায়না পুটি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, পাঙ্গাস ১৪০ টাকায়, বড় সাইজের প্রতি কেজি চিংড়ি ৯০০ টাকায়, চাষের কৈ ২৫০ টাকায়, সিলভার কার্প ১৩০ টাকায়, শিং মাছ ৫০০ টাকায়, নলা মাছ ১৬০ টাকায়, কার্ফু মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়, চাপিলা মাছ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় ও জাটকা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।

মাংস :

আজকে প্রতি কেজি গরুর মাংস ২৮০ টাকায়, খাসির মাংস ৪৫০ টাকায়, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়, দেশি মুরগি ৩৫০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকায়, লেয়ার মুরগি ১৪০ টাকায়, পাকিস্তানি মুরগি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, হাঁস ২৮০ টাকায় ও কবুতরের বাচ্চা জোড়া প্রতি ২২০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে।

এমআরএস