দেশীয় স্টিলশিল্প রক্ষার্থে আমদানি বিলেটে শুল্ক বাড়ানোর দাবি

  • Emad Buppy
  • May 14, 2014
  • Comments Off on দেশীয় স্টিলশিল্প রক্ষার্থে আমদানি বিলেটে শুল্ক বাড়ানোর দাবি
দেশীয় স্টিল শিল্প
দেশীয় স্টিল শিল্প
দেশীয় স্টিল শিল্প

আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে দেশীয় বিলেট উৎপাদনকারী স্টিল শিল্প রক্ষার্থে আমদানি বিলেটে শুল্ক বাড়িয়ে টনপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ তিনটি সংগঠন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলো এসব দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মলনে, স্টিল শিল্পের কাঁচামাল এবং বিলেট আমদানির ক্ষেত্রে টনপ্রতি ৮০০ টাকা অগ্রীম আয়কর প্রত্যাহার এবং স্টিলপণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করারদাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে কেমিক্যাল ফেরো অ্যালয়, ফেরো সিলিকন ও ফেরো সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ এআইটি প্রত্যাহার করার পাশাপাশি কোয়ার্জ পাউডার, গ্রাফাইট পাউডার এবং গ্রাফাইট ইলেকট্রোডের আমদানি শুল্ক টনপ্রতি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করাও দাবি জানানো হয়।

তাছাড়া, স্থানীয় স্টিল শিল্প কারখানায় কাঁচামাল যোগানদারের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ উৎসে কর বাতিল করা, স্টিল ও রি-রোলিং সেক্টরের জন্য ০.৫০ শতাংশ ন্যূনতম আয়কর তুলে নেওয়াসহ ব্যাংকে লোকাল এলসির ক্ষেত্রে ধার্যকৃত ৫ শতাংশ অগ্রীম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলসের সভাপতি শেখ মাসাদুল আলমলিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশীয় স্টিল ও রি-রোলিং শিল্পসমূহ এম.এস. রডসহ আন্যান্য এম.এস পণ্য দেশের সম্পূর্ণ চাহিদা মিটিয়ে আসছে। স্থানীয় স্টিল শিল্প রক্ষার্থে এ সকল পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন নেই। দেশে মোট ৭২ লাখ মেট্রিকটন রড উৎপাদিত হয়, চাহিদা মেটানোর পরও ৩৫ লাখ মেট্রিকটন রড মজুদ থাকে।

তিনি বলেন, আমদানিকৃত ও দেশীয় শিল্পে বিলেট থেকে রড তৈরির ক্ষেত্রে টনপ্রতি মোট ব্যয়ের পার্থক্য ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ কারণে স্থানীয় বিলেট উৎপাদনকারীরা বড়ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত প্রায় ২০ লাখশ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাসাদুল আলম আরও বলেন, ‘বড় শিল্পে বিদেশি এলসির মাধ্যমে ৩ শতাংশ হারে ঋণ নেয়। আমাদের সুদের হার ১৬ শতাংশ। এই শিল্পকে বাঁচাতে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিতে হবে। শিল্প টিকিয়ে রাখতে ভর্তুকি ও দরকার। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যোগ করতে হবে। অবকাঠামো ছাড়া কোনো শিল্পই বেশি দূর এগোতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ স্টিল মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান বকুল, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক।

ইউএম/ এআর