জবিতে সভাপতি গ্রুপকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত, আহত ১০, বহিষ্কার ৬

ju
ছাত্রলীগ
জবি, ছাত্রলীগ লোগো

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বুধবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের পক্ষের কর্মীরা সভাপতি শরিফুল ইসলামের কর্মীদের দুদফা ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে। এ ঘটনানায় উভয় পক্ষের আন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত সোমবার জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল ৯টায় সভাপতি শরিফুল ইসলামের অনুসারীরা সাংগঠনিক সম্পাদক কানন, আসাদুজ্জামান আসাদ ও শাকিলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ কর্মী রামদা, চাপাতি, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ওঁৎপেতে থাকে। এ সময় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের অনুসারি সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির সকাল ৯টায় তার বিভাগে ক্লাশ করতে গেলে রফিক ভবনের সামনে অতর্কিত হামলার শিকার হন। এ সময় তানভিরকে বাঁচাতে সাইফুল ও রাসেল এগিয়ে এলে হামলায় তারাও আহত হন। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১০টার সময় সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে সংগঠিত হতে থাকে, অপর দিকে সভাপতি কর্মীরা কলা ভবনে অবস্থান নেয়। তখন সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কয়েকশকর্মী কলা ভবনে অবস্থিত সভাপতির কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা টিকতে না পেরে অনেকেই (সভাপতি গ্রুপের) কলা ভবনের দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসের বাহিরে বের হয়ে যান। তাদের কেউ কেউ ইসলামের স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,ইংরেজী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। তখন সভাপতি শরিফুল ইসলাম কলা ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম শিশির ও প্রক্টর অশোক কুমার সাহা পুলিশের সহযোগিতায় শরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। পরে শরিফুল ইসলাম পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে শরিফুল ইসলামের ২০ থেকে ৩০জন কর্মী নতুন ভবনের সামনে সিরাজুল ইসলামের কর্মী প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্র জসিম উদ্দিনকে একা পেয়ে মারধর করে গুরতর আহত করে। দ্বিতীয় দফায় সিরাজুল ইসলামের কর্মীরা ধাওয়া দিয়ে শরিফুল ইসলামের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এ সময় পারভেজ নামের মনোবিজ্ঞানের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা ব্যাপক মারধর করে। ক্যাম্পাস থেকে শরিফুল ইসলামের কর্মীরা বাহিরে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

আহতরা হলেন, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির, ইংরেজি বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের সাইফুল, অষ্টম ব্যাচের আশরাফুল, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের কানন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের রনি, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের জসিম উদ্দিন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের পারভেজসহ অন্তত দশ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের স্থানিয় হাসপাতাল ও সুমনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার বিষয়টি খুজে বের করে বিচার করেছে কেন্দ্রীয় ছাএলীগ । জড়িতদেরকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের বদনাম করতে ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে একটি চক্র বিভিন্ন অপকর্মে বহিরাগতদের নিয়ে লিপ্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাঈনুল সিদ্দিকী কানন, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান আগুন, উপ-আইন সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন কানন, উপ-সম্পাদক মো. রায়হান, উপ-পাঠাগার সম্পাদক মো. ইব্রাহীম ও সহ-সম্পাদক শরীফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. অশোক কুমার সাহা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুমনা ক্লিনিকে চার জন ছাত্র আহত অবস্থান ভর্তি হয়েছে। তবে তাদের সুচিকিৎসা চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআই/সাকি